ট্রাম্পের (Trump) এই মন্তব্যকে এখনও পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে যে ভারত, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 5 September 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘দেখে মনে হচ্ছে ভারত ও রাশিয়াকে আমরা চিনের কাছে গভীরভাবে হারালাম।’’ সঙ্গে তির্যক ভঙ্গিতে তিন দেশকেই ‘‘দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের’’ শুভেচ্ছা জানান তিনি।
গত সপ্তাহে তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে এক মঞ্চে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping), ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানেই ত্রিপাক্ষিকভাবে শক্তি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেসব ইস্যুতে তিন দেশেরই মতভেদ রয়েছে— ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি, সেগুলিও আলোচনায় উঠে আসে।
ট্রাম্পের (Trump) এই মন্তব্যকে এখনও পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে যে ভারত, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের কৌশলগত দৃষ্টিতে ভারত ছিল চিনকে প্রতিরোধ করার মূল শক্তি। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় প্রশাসনই দিল্লিকে মিত্র করার দিকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালীন ট্রাম্প নিজেও ‘হাউডি মোদী’ অনুষ্ঠান থেকে কোয়াড পুনরুজ্জীবন, সবেতেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট। ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বিশেষ করে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে তাঁর বিরূপ মন্তব্য, মার্কিন চাপকে দুর্বল করে দিয়েছে। সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন, ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ও ২৫ শতাংশ রাশিয়ান তেল আমদানির জন্য অতিরিক্ত। মার্কিন বাণিজ্যের ইতিহাসে ভারতের উপর এত বড় শুল্ক আরোপ বিরল।
তিয়ানজিন সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মোদীর চিন সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালে গলওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর থেকে দু’দেশের সম্পর্ক ছিল টানটান। সাত বছর পরে চিন সফরে গিয়ে শি ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকেই অগ্রাধিকার দেবে ভারত, কোনও একক শিবিরে আবদ্ধ হবে না।
ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার ডিসকাউন্টে তেল কিনে ভারত মস্কোর ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে অর্থ জোগাচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা সামান্য, অথচ তারা বিপুল ব্যবসা করছে আমেরিকার সঙ্গে। এটা একতরফা বিপর্যয়।’’
এর জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দ্বিচারিতা করছে আমেরিকা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চিনও রাশিয়ান তেল আমদানি করছে, কিন্তু শুধুমাত্র ভারতের সমালোচনা করা হচ্ছে।