বোল্টনের দাবি, মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কও একসময় খুব ভাল ছিল। কিন্তু এখন সেটি অতীত।

শেষ আপডেট: 5 September 2025 08:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) জন বোল্টন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (America President Donald Trump) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Indian PM Narendra Modi) যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, তা এখন আর নেই। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা কোনও দেশের নেতাকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম LBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোল্টন বলেন, “ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে (America-India Relationship) সবসময় নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চশমায় দেখেন। যেমন, তাঁর যদি ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে সম্পর্ক ভাল হয়, তবে তিনি মনে করেন আমেরিকারও রাশিয়ার (America-Russia Relationship) সঙ্গে সম্পর্ক ভাল। অথচ বাস্তবে তা নয়।”
বোল্টনের দাবি, মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কও একসময় খুব ভাল ছিল। কিন্তু এখন সেটি অতীত। তিনি সতর্ক করেন, “এটি সবার জন্য শিক্ষা হওয়া উচিত - একটা ভাল ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনও কখনও সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবে না।”
ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টানাপড়েন
বোল্টনের মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দুই দশকের মধ্যে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে কঠিন পর্ব পার করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
একইসঙ্গে, বোল্টনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দ্বিদলীয় মার্কিন প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার লক্ষ্য ছিল ভারতকে রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত করে চিনের বিরুদ্ধে কৌশলগতভাবে প্রস্তুত রাখা। তিনি বলেন, “এখন তার উল্টোটা ঘটছে। দিল্লি রাশিয়া ও চিনের দিকে ঝুঁকছে।” যদিও তাঁর আশা, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
বোল্টন আরও দাবি করেন, ট্রাম্প সরকারের শুল্ক আরোপ ও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করা ছিল এক ধরনের ‘ভুল সিদ্ধান্ত’, যা দিল্লিকে বেজিং-মস্কো অক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বোল্টনের মেরিল্যান্ডের বাড়ি ও ওয়াশিংটনের অফিস সম্প্রতি এফবিআই তল্লাশি চালিয়েছে, গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগে।
এদিকে, ট্রাম্প আগামী ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন।