মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজের (Delcy Rodriguez) উপরেই ভরসা রেখেছে হোয়াইট হাউস। তবে ভেনেজুয়েলার রাজপথে সেই দাবির বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
.jpeg.webp)
বাস্তবে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের শাসকগোষ্ঠী মাদুরোর নাটকীয় গ্রেফতারের পর বলপ্রয়োগ করে হাওয়া ঠান্ডা রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) গ্রেফতারের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন, ভেনেজুয়েলা এখন কার্যত আমেরিকার ‘নিয়ন্ত্রণে’। অথবা ভেনেজুয়েলাকে আপাতত চালাচ্ছে আমেরিকা। মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজের (Delcy Rodriguez) উপরেই ভরসা রেখেছে হোয়াইট হাউস। তবে ভেনেজুয়েলার রাজপথে সেই দাবির বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
দেশজুড়ে মোতায়েন হয়েছে সশস্ত্র সেনাবাহিনী (armed militia)। মুখ ঢাকা বন্দুকধারীরা রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে, সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করছে। অন্তত ১৪ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত (journalists arrested)। ট্রাম্প প্রশাসন যতই বলুক ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন, বাস্তবে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের শাসকগোষ্ঠী মাদুরোর নাটকীয় গ্রেফতারের পর বলপ্রয়োগ করে হাওয়া ঠান্ডা রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন অভিযানে মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে (New York) নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউস-সমর্থিত নতুন শাসকগোষ্ঠী দ্রুত ‘ক্ষমতার শূন্যতা’ পূরণে নামে। কিন্তু তা কোনও সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে নয়, পুরোপুরি জবরদস্তি চালিয়ে। অজ্ঞাত পরিচিত সেনাদল খুঁজে বের করছে তথাকথিত আমেরিকা-ঘনিষ্ঠদের। রাস্তায় শোনা যাচ্ছে স্লোগান—“Always loyal, never traitors”, বিরোধীদের ‘শুয়োর’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আমেরিকার সাংবাদিক লুলু গার্সিয়া-নাভারো (Lulu Garcia-Navarro) এক্স-এ লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্দরের সূত্রের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, সরকার-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গ্যাং রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, সাংবাদিক গ্রেফতার চলছে এবং পুরনো-নতুন শাসন মিলিয়ে দেশজুড়ে দমনপীড়নের ঢেউ উঠেছে। তাঁর প্রশ্ন, এটাই কি আমেরিকার ‘নিয়ন্ত্রণ’? মাদুরোর গ্রেফতারের পর তাঁর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা (Nicolas Maduro Guerra), যাঁকে অনেকে ‘রাজপুত্র’ বলে ডাকেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এক অডিও বার্তায় ‘বিশ্বাসঘাতক’-দের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইতিহাসই বলবে কারা বিশ্বাসঘাতক। ইতিহাসই তাদের সামনে আনবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি শান্ত এবং তাঁরা রাস্তায় সাধারণ মানুষের পাশেই থাকবেন।
কারাকাসে বন্দুকধারী আধা সেনাদের দাপট
ব্রিটেনের সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian) জানায়, কারাকাসজুড়ে মোটরবাইকে টহল শুরু করেছে আধা সেনাবাহিনী। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে তারা অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি থামাচ্ছে, তল্লাশি চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই— বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করে দেখিয়ে দেওয়া ‘চাভিসমো’ (Chavismo) এখনও ভেনেজুয়েলার রাজপথের দখল ছাড়েনি। চাভিসমো হল উগো শাভেজ (Hugo Chavez) ও নিকোলাস মাদুরোর আদর্শে গড়ে ওঠা বামপন্থী, কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক ধারা। কোলেক্তিভো-রা মূলত এই মতাদর্শেরই আধা সেনা। যারা সরকারের অনুগত। দরিদ্র পাড়াগুলিতে যাদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এই টহলদাররা গাড়ি থামিয়ে মানুষের ফোন চেক করছে। কন্ট্যাক্টস, মেসেজ, এমনকী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পর্যন্ত। অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, মুখোশধারী বন্দুকবাজরা হাইওয়ে আটকে দিচ্ছে, বিরোধী অধ্যুষিত এলাকায় ঢুকে বাসিন্দাদের জেরা করছে। এক স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, হুডি পরা বন্দুকধারীরা টহল দিচ্ছে, মানুষের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস পর্যন্ত পরীক্ষা করছে।
ভেনেজুয়েলার রাস্তাঘাটে এই দৃশ্যই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মাদুরো গ্রেফতার হলেও ক্ষমতার লড়াই শেষ হয়নি। বরং ভয় আর দমননীতির মাধ্যমে কর্তৃত্ব কায়েম রাখার চেষ্টা আরও তীব্র হয়েছে।