ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে আমেরিকার দখলে নেওয়া একটি ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’ তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ঘিরে রাশিয়া একটি ডুবোজাহাজ ও অন্যান্য নৌ-সেনাযান মোতায়েন করায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এটি আইসল্যান্ডের দক্ষিণে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে পূর্ব আটলান্টিকে রয়েছে এবং উত্তর সাগরের দিকে এগচ্ছে। এআই প্রয়োগ করে নির্মিত ছবি।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে আমেরিকার দখলে নেওয়া একটি ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’ তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ঘিরে রাশিয়া একটি ডুবোজাহাজ ও অন্যান্য নৌ-সেনাযান মোতায়েন করায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বয়সে জীর্ণ ওই ট্যাঙ্কারের আগের নাম বেল্লা ১ (Bella 1)—কে ঘিরে একটি সাবমেরিনসহ একাধিক নৌযান মোতায়েন করায় ওয়াশিংটন–মস্কো উত্তেজনা আরও চড়েছে (US–Russia tensions, sanctioned oil tanker)।
মার্কিন কর্তাদের দাবি, খালি ও মরচে ধরা ওই ট্যাঙ্কারটি গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার কাছে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজগুলির উপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল (Venezuela oil sanctions)। ভেনেজুয়েলায় নোঙর ফেলে তেল না তোলা এমনকী কোনও পণ্য বহন না করা জাহাজটি আমেরিকার তক্কেতক্কে ছিল। কারণ বিশ্বজুড়ে অবৈধ তেল পরিবহন নেটওয়ার্ক ভাঙার অভিযানের অংশ হিসেবে (illicit oil trade) আমেরিকা এটির উপর নজর রাখছিল।
মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী জাহাজটিকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত ধাওয়া করেছে। তাদের মতে, এটি কালোবাজারে তেল সরবরাহে ব্যবহৃত তথাকথিত শ্যাডো ফ্লিট (shadow fleet) বা গোপন সরবরাহকারী জাহাজ, যার সঙ্গে রাশিয়ার তেলও জড়িত থাকতে পারে (black market oil)। গত ডিসেম্বরে জাহাজে তল্লাশির মার্কিন চেষ্টা আটকে দিয়ে নাবিকরা আন্তর্জাতিক জলসীমার দিকে জাহাজটি ঘুরিয়ে নেয়।
মার্কিন ধাওয়ার মধ্যেই জাহাজের কর্মীরা গায়ে অগোছালোভাবে রাশিয়ার পতাকা এঁকে নেয়, নাম বদলে ম্যারিনেরা (Marinera) রাখে এবং রাশিয়ার নামে ফ্ল্যাগ রেজিস্ট্রি করে (Russian flag registration)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও পরিদর্শন বা প্রচলিত বিধি ছাড়াই রাশিয়ার পতাকায় রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দেওয়া অস্বাভাবিক। এতে স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাজেয়াপ্ত-অভিযান নিয়ে মস্কোর উদ্বেগ বেড়েছে (US vessel seizures)।
একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্যাঙ্কারটির পিছু নেওয়া বন্ধ করতে অনুরোধ করেছে। রুশ বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, তারা পরিস্থিতি “উদ্বেগের সঙ্গে” পর্যবেক্ষণ করছে (Russian Foreign Ministry)। রুশ জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে ঘটনাটিকে অসামরিক জাহাজে মার্কিন হস্তক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (state media narrative)।
হোয়াইট হাউস মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাদার্ন কমান্ড (US Southern Command) জানিয়েছে, এই অঞ্চলে চলাচলকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তারা প্রস্তুত (sanctions enforcement)। আমেরিকার উপকূল রক্ষী বাহিনী এখনও জাহাজটির পিছু ছাড়েনি। শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, বর্তমানে এটি আইসল্যান্ডের দক্ষিণে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে পূর্ব আটলান্টিকে রয়েছে এবং উত্তর সাগরের দিকে এগচ্ছে (North Sea route)।