আমি সিলিয়া ফ্লোরেস। আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের ফার্স্ট লেডি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রের তিনটি ধারায় কীভাবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন, জানতে চাইলে ফ্লোরেস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমি নির্দোষ—পুরোপুরি নির্দোষ।

সোমবার মাদুরো ও ফ্লোরেস কেউই এই পর্যায়ে জামিনের আবেদন করেননি। ছবি- সংবাদ সংস্থার সৌজন্যে।
শেষ আপডেট: 6 January 2026 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমি এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। মার্কিন আদালতে দৃপ্ত গলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর এই ঘোষণার পরে তাঁর স্ত্রী বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে জানান, আমি সিলিয়া ফ্লোরেস। আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের ফার্স্ট লেডি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রের তিনটি ধারায় কীভাবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন, জানতে চাইলে ফ্লোরেস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমি নির্দোষ—পুরোপুরি নির্দোষ।
সোমবার মাদুরো ও ফ্লোরেস কেউই এই পর্যায়ে জামিনের আবেদন করেননি। বিচারক জানান, ভবিষ্যতে জামিনের আবেদন গ্রহণে তিনি আগ্রহী থাকবেন। তবে আপাতত প্রেসিডেন্ট দম্পতিকে নিউইয়র্কের এমডিসি-ব্রুকলিন সংশোধনাগারে আটক রাখা হবে। আদালতে ফ্লোরেসের পক্ষে তাঁর আইনজীবী ডনেলি জানান, মার্কিন সেনার অপহরণের সময় তিনি আহত হয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একটি মেডিক্যাল পরীক্ষার আবেদন জানান। আদালতে উপস্থিতদের চোখে ফ্লোরেসের মাথায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ডনেলি বলেন, তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তাঁর পাঁজরে চিড় ধরার বা তীব্র আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (১৭:০০ জিএমটি) মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কের জেলা দায়রা বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টাইনের এজলাসে তোলা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’সহ একাধিক অভিযোগে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয় এই শুনানির মধ্য দিয়ে। হাতকড়া পরা, নীল রঙের জেলবন্দি পোশাকে আদালতে আনা হয় মাদুরো দম্পতিকে। ইংরেজিতে চলা শুনানি স্প্যানিশে অনুবাদের জন্য দু’জনকেই ভাষান্তরকারী হেডসেট পরা অবস্থায় দেখা যায়।
ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ, সজ্জন বলে দাবি করেন এবং বলেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল।
আজীবন কারাদণ্ডের ঝুঁকি
মাদুরো, তাঁর স্ত্রী, তাঁদের ছেলে এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তাঁরা মাদকচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে হাজার হাজার টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারে সহায়তা করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, মাদুরোর বিরুদ্ধে সরাসরি মাদককারবারে যুক্ত থাকার প্রমাণ নেই।
রাষ্ট্রসঙ্ঘে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সোমবারই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের বৈধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৩ জানুয়ারির সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের বিধি মানা হয়নি বলে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে কোনও রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মোনকাদা আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’র অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বোমাবর্ষণ, অসামরিক কাঠামো ধ্বংস এবং প্রাণহানির পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই পদক্ষেপকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা একজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে, যিনি এখন নিউইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।
শুনানি শেষে মাদুরোকে যখন আদালতকক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন দর্শকসারিতে থাকা এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে স্প্যানিশ ভাষায় চিৎকার করে বলেন, ভেনেজুয়েলার নামে তোমাকে এর মূল্য দিতে হবে। মাদুরো থেমে দাঁড়িয়ে পাল্টা জবাব দেন। তিনি নিজের ভাষায় উত্তর দেন, আমি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। আমি একজন যুদ্ধবন্দি। আমি মুক্ত হবই। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৭ মার্চ।