মঙ্গলবার বিকেলে চোর সন্দেহে একদল মানুষের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৫ বছর বয়সি এক হিন্দু যুবকের (Hindu Young Man)। মৃতের নাম মিঠুন সরকার।
.jpeg.webp)
পুলিশ খালে ডুবুরি নামিয়ে মিঠুনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu Community) উপর আক্রমণের নতুন একটি মর্মান্তিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার বিকেলে চোর সন্দেহে একদল মানুষের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৫ বছর বয়সি এক হিন্দু যুবকের (Hindu Young Man)। মৃতের নাম মিঠুন সরকার। তিনি বাংলাদেশের ভান্ডারপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চোর সন্দেহে তাড়া করা হয়েছিল মিঠুন সরকারকে। মারমুখি মানুষের হাত থেকে রক্ষা পেতে পালাচ্ছিলেন তিনি। শেষে বাঁচার তাগিদে খালের জলে ঝাঁপ মেরেছিলেন ২৫ বছর বয়সি যুবক। সেই অবস্থায় প্রবল ঠান্ডায় জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁয়ের মহাদেবপুরে। পুলিশ খালে ডুবুরি নামিয়ে মিঠুনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুর ১টার দিকে হাটচকগৌরী বাজার থেকে চোর সন্দেহে কিছু যুবক ধাওয়া করেছিল মিঠুনকে। এ সময় মিঠুন সরকার দৌড়ে হাটচকগৌরী বাজারের পাশে একটি খালে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাজশাহির ডুবুরি দল ঘটনাস্থল গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি চুরি করেছিলেন কি না এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ পুলিশ পায়নি বলে জানানো হয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এরপর রাজশাহী থেকে ডুবুরি দলকে এনে দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি চোর কি না এ বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত নয়।
গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক হিংসা ঘটনার মধ্যে মিঠুনের মৃত্যু সর্বশেষ। সোমবার যশোর জেলায় অজ্ঞাত হামলাকারীরা এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও একটি খবরের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। একই দিনে নরসিংদী শহরে ৪০ বছরের এক হিন্দু মুদি দোকানদারকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়। এর আগে ৩ জানুয়ারি শরিয়তপুর জেলার কেউরভাঙা বাজারের কাছে পিটিয়ে মারা হয় খোকনচন্দ্র দাসকে। ডিসেম্বর মাসেও বেশ কয়েকটি নৃশংস ঘটনা ঘটে। ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ি শহরে তোলাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে একদল জনতা পিটিয়ে মারে এবং তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।