অডিওতে শোনা যায়, ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রুজ নিজেকে মুক্ত বাণিজ্যপন্থী, প্রথাগত রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরছেন এবং ভ্যান্সের ‘আইসোলেশনিস্ট’ বা অন্তর্মুখী নীতির কড়া সমালোচনা করছেন।

ট্রাম্প ও মোদী
শেষ আপডেট: 26 January 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুল্ক যুদ্ধের আবহে ফের অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস (White House)। ভাইরাল হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে (অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল) ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতভেদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভারত-আমেরিকা (India-America Trade Tal) শুল্ক চুক্তির আলোচনা আটকে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের (White House News) উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump)।
‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে রেকর্ড করা। এক রিপাবলিকান সূত্র সেটি প্রকাশ করেছে। অডিওতে শোনা যায়, ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রুজ নিজেকে মুক্ত বাণিজ্যপন্থী, প্রথাগত রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরছেন এবং ভ্যান্সের ‘আইসোলেশনিস্ট’ বা অন্তর্মুখী নীতির কড়া সমালোচনা করছেন। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই বিভাজন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
শুল্ক নীতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র সংঘাত
অডিওতে ট্রাম্পের শুল্ক-কেন্দ্রিক বাণিজ্য নীতিকে ‘অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দেন ক্রুজ। তাঁর দাবি, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমনকি অভিশংসনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক ঘোষণা হওয়ার পর একদল সেনেটর গভীর রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে।
সেই কথোপকথন যে মোটেও মসৃণ ছিল না, সেটাও অডিওতে স্পষ্ট। ক্রুজের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প রীতিমতো চিৎকার ও গালিগালাজ করেন। “ট্রাম্প তখন খুব খারাপ মুডে ছিলেন,” বলেন ক্রুজ।
তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভাতার অ্যাকাউন্ট ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০-২০ শতাংশ বাড়ে, তা হলে রিপাবলিকানদের ‘নির্বাচনী গণহত্যা’ হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারানোর পাশাপাশি লাগাতার অভিশংসনের মুখেও পড়তে হবে প্রশাসনকে। অডিও অনুযায়ী, ট্রাম্পের জবাব ছিল, “ফা* ইউ, টেড।”
‘লিবারেশন ডে’ নিয়েও কটাক্ষ
শুল্ক ঘোষণাকে প্রশাসনের তরফে ‘লিবারেশন ডে’ বলে প্রচার করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেছেন ক্রুজ। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ উল্লেখ করতেই তিনি ঠাট্টার সুরে বলেন, তাঁর দলে কেউ এমন শব্দ ব্যবহার করলে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।
ভারত চুক্তি আটকে কারা?
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে। ক্রুজ জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন যাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তি এগোয়। কে বা কারা বাধা দিচ্ছেন, এই প্রশ্নে তিনি সরাসরি পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ‘কখনও কখনও ট্রাম্প নিজেকেই’ দায়ী করেন।
অডিওতে ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে তুলনা করেন ক্রুজ। তাঁর অভিযোগ, কার্লসনের বিদেশনীতি-সংক্রান্ত অন্তর্মুখী ও বিতর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ভ্যান্স। তিনি বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। দু’জন আসলে এক এবং অভিন্ন।”