এই চরম উত্তেজনার আবহেই জানা গিয়েছে, জাপান থেকে ইরানের দিকে রওনা দিয়েছে আমেরিকার অন্যতম ঘাতক ‘অ্যাম্ফিবিয়ান অ্যাসল্ট’ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি (USS Tripoli)। যা কার্যত ইরানকে জলপথেও ঘিরে ফেলার এক চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট।

আমেরিকার অন্যতম ঘাতক ‘অ্যাম্ফিবিয়ান অ্যাসল্ট’ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি।
শেষ আপডেট: 14 March 2026 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকালেই ইরানের (Iran War) প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আমেরিকার ‘বিধ্বংসী’ বিমান হামলার পর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শাসানির সুরে বলেছিলেন, “ইরানের দিন ঘনিয়ে এসেছে, ওদের শেষ দেখে ছাড়ব।”
এই চরম উত্তেজনার আবহেই জানা গিয়েছে, জাপান থেকে ইরানের দিকে রওনা দিয়েছে আমেরিকার অন্যতম ঘাতক ‘অ্যাম্ফিবিয়ান অ্যাসল্ট’ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি (USS Tripoli)। যা কার্যত ইরানকে জলপথেও ঘিরে ফেলার এক চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট।
সমুদ্রপথেও হামলার প্রস্তুতি?
আকাশপথের পর এবার সমুদ্রপথেও ইরানকে কড়া জবাব দিতে তৈরি আমেরিকা। সূত্রের খবর, বর্তমানে থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সের মাঝামাঝি থাকা এই ‘লাইটনিং ক্যারিয়ার’ রণতরীটিতে রয়েছে,
৮৪৪ ফুটের এই অতিকায় জাহাজটি মূলত সমুদ্র থেকে স্থলের লক্ষ্যবস্তুতে নিঁখুত হামলা চালাতে পারদর্শী। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড। ত্রিপোলি সেখানে পৌঁছে গেলে ইরানে আমেরিকার সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
‘খামেনেই-পরবর্তী’ ইরান ও যুদ্ধের ডামাডোল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই রক্তক্ষয়ী হামলার পর থেকেই আরব দুনিয়া উত্তাল। অভিযোগ, ‘আমেরিকা ঘনিষ্ঠ’ দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। শনিবার খার্গ দ্বীপে হামলার পর ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, তাঁরা ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামের কথা মাথায় রেখে আপাতত সেখানকার তেল শোধনাগার বা তেলের খনিগুলিকে অক্ষত রাখা হয়েছে।
পাল্টা হুঙ্কার আইআরজিসি-র
পিছিয়ে নেই ইরানও। সে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, আমেরিকা যদি অবিলম্বে হামলা বন্ধ না করে, তবে ইরানের প্রতিটি তেলভান্ডারকে তারা মাটিতে মিশিয়ে দেবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বার্তাও দিয়েছে তেহরান।
কূটনৈতিক মহলের মতে, খামেনেই-এর অবর্তমানে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এখন অনেকটাই বেপরোয়া। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি দুই দেশকে এমন এক যুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়েছে, যার আঁচ কেবল পশ্চিম এশিয়ায় নয়, বদলে দিতে পারে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে।