পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই হামলাগুলি চালানো হয়েছিল জঙ্গি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে। বিশেষ করে আফগান তালিবান এবং তেহরিক-ই-তালিবান (Tehrik-e-Taliban Pakistan)-এর সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদস্থ জঙ্গিদের নিশানা করা হয়েছিল।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সীমান্তে সংঘর্ষ
শেষ আপডেট: 14 March 2026 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ (Pakistan Afghanistan border conflict) ক্রমশই তীব্র হয়ে উঠছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৭০টিরও বেশি রকেট ও আর্টিলারি শেল ছোড়া (Pakistan rockets Kunar province) হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সংবাদমাধ্যম CNN-News18-এর সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের দিক থেকে ছোড়া এই গোলাবর্ষণে আফগানিস্তানের একাধিক এলাকা (Afghanistan Pakistan airstrikes) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ডিরেক্টর জিয়াউররহমান স্পিন ঘার জানিয়েছেন, প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই হামলার প্রভাব পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফেব্রুয়ারি থেকেই সংঘর্ষ
গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
প্রথমে পাকিস্তান তালিবান শিবিরে বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তার পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তালিবান। সেই সময় থেকেই সীমান্ত এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষ, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই সপ্তাহেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই হামলাগুলি চালানো হয়েছিল জঙ্গি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে। বিশেষ করে আফগান তালিবান এবং তেহরিক-ই-তালিবান (Tehrik-e-Taliban Pakistan)-এর সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদস্থ জঙ্গিদের নিশানা করা হয়েছিল।
তবে আফগান তালিবান এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানের হামলায় সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই হামলার “উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
কৌশলগত স্থানে হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান একাধিক স্থানে হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে ছিল কান্দাহার বিমানবন্দর, পাকতিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী কাবুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
আরও জানা গিয়েছে, কান্দাহার শহরে তালিবানের ‘আল-বাদর কর্পস’-এর সদর দফতরও হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। হামলার সময় সেখানে তালিবানের একাধিক শীর্ষ কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষ যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।