উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক কিম জং উন (Kim Jong Un) কি হঠাৎ ক্ষেপে উঠলেন? কেনই বা ক্ষেপে গেলেন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার (US South Korea Exercise) যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যেই আবারও শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। শনিবার ১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missiles) সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে পিয়ংইয়ং। এমনটাই জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী।

শেষ আপডেট: 14 March 2026 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক কিম জং উন (Kim Jong Un) কি হঠাৎ ক্ষেপে উঠলেন? কেনই বা ক্ষেপে গেলেন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার (US South Korea Exercise) যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যেই আবারও শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। শনিবার ১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missiles) সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে পিয়ংইয়ং। এমনটাই জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে ছোড়া হয় এবং সেগুলি পূর্ব উপকূলের দিকে উড়ে গিয়ে জাপান সাগরে পড়ে।
জাপানের কোস্ট গার্ডও জানিয়েছে, তারা একটি সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যা পরে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। তবে সেটি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের বাইরে পড়েছে, ফলে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এবং প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
উত্তর কোরিয়ার জন্য এ ধরনের পরীক্ষা নতুন নয়। গত দুই দশক ধরে তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে আসছে। এর উদ্দেশ্য মূলত নিজেদের প্রযুক্তি ক্ষমতা বাড়ানো। এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময়টাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক বড় সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়াকে দুই দেশই প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করলেও উত্তর কোরিয়া বরাবরই এটিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করে।
শনিবারের মহড়ায় শতাধিক মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেয়। সেখানে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যুদ্ধযান ব্যবহার করে নদী পার হওয়ার অনুশীলন করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮,৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সকের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে ট্রাম্প নাকি বলেছেন, তিনি এখনও কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং সুযোগ পেলে আবারও আলোচনায় বসতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে একটি অদ্ভুত কৌশল দেখা যাচ্ছে—একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে, অন্যদিকে আবার কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও খোলা রাখছে।
খুব শিগগিরই জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে একটি নতুন মিসাইল ডিফেন্স প্রোগ্রাম “গোল্ডেন ডোম” ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ব্যবস্থা মূলত মহাকাশভিত্তিক সেন্সর ব্যবহার করবে এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করবে। এই প্রকল্পে জাপানের বড় প্রতিরক্ষা বাজেট এবং শিল্প প্রযুক্তিও যুক্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা নয়। এটি বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ। এখানে কয়েকটি বড় শক্তি জড়িয়ে আছে—যেমন চিন হল উত্তর কোরিয়ার প্রধান বন্ধু। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নিরাপত্তা রক্ষায় রয়েছে আমেরিকা। জাপানের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা সমঝোতা আরও নিবিড় হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধু সামরিক প্রদর্শন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে—উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে। কই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও খোলা রাখা হবে অর্থাৎ সামরিক চাপ ও কূটনীতির সমন্বয়ই সম্ভবত আগামী দিনে এই অঞ্চলের কৌশল নির্ধারণ করবে।