মধ্যপ্রাচ্যে চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির (Iran Israel US war) মধ্যে এবার অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল। এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় খবর হল, ইরানকে পশ্চিম এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির উপর এবার হামলা থামাতে বলল হামাস (Hamas)। আল জাজিরা ও কয়েকটি প্যালেস্টাইনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেষ আপডেট: 14 March 2026 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির (Iran Israel US war) মধ্যে এবার অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল। এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় খবর হল, ইরানকে পশ্চিম এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির উপর এবার হামলা থামাতে বলল হামাস (Hamas)। আল জাজিরা ও কয়েকটি প্যালেস্টাইনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে হামাস বলেছে, “আমাদের ইরানি ভাইদের অনুরোধ করছি প্রতিবেশী দেশগুলিকে লক্ষ্য করে আর হামলা না চালাতে। এই অঞ্চলের সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।” এখনও পর্যন্ত হামাস এই বিবৃতি অস্বীকার করেনি। আবার ইরানের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও সংগঠনও এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিবৃতি? বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যের চলতি যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করছে। বহু বছর ধরে হামাসকে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেখা হয়। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) দীর্ঘদিন ধরে হামাসকে অর্থ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর ইরানের থেকে ১০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পেয়েছে হামাস। এই সম্পর্কের কারণেই হামাসকে অনেক সময়ে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ বলা হয়—যেখানে ইরান, হিজবুল্লা, হামাস এবং অন্যান্য সংগঠন ইজরায়েলের বিরুদ্ধে এক সঙ্গে তালমিল রেখে কাজ করে।
হামাসের বিবৃতিতে দুটি আলাদা বার্তা রয়েছে। প্রথমত, তারা বলেছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রাখে ইরান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা ইরানকে অনুরোধ করেছে প্রতিবেশী আরব দেশগুলিতে হামলা বন্ধ করতে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি অবস্থান একসঙ্গে রাখা কঠিন। কারণ যদি ইরান সেই দেশগুলিতে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন ও সৌদি আরব। এছাড়া ওমান ও কাতারের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর সামনে এসেছে। সমস্যা হল, এই দেশগুলির অনেকগুলিই প্যালেস্টাইনি কূটনীতি ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিল কাতার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। আরব বিশ্বের কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয় সৌদি আরব। ফলে এই দেশগুলির সঙ্গে সংঘাত বাড়লে হামাসের রাজনৈতিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের সামরিক কৌশল তার বন্ধুদের জন্যও সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার হামাসের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাদের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা আসে ইরান থেকে। কিন্তু কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন আসে আরব দেশগুলির কাছ থেকে। ইরান যদি সেই আরব দেশগুলিকেই লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে হামাসের পক্ষে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিবৃতিকে এখনও জোট ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। হামাস এখনও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অবস্থান নেয়নি। বরং তারা বলেছে, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবুও অনেকের মতে, ১৭ বছরের সম্পর্কের মধ্যে এই প্রথমবার হামাস প্রকাশ্যে এমন বার্তা দিল—যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বর্তমান সংঘাত শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি একই সঙ্গে জোট রাজনীতি, অর্থনীতি এবং কূটনীতির যুদ্ধ। হামাসের এই বিবৃতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জোটের ভিতরে চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার উপর নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শক্তির সমীকরণ।