স্ট্রেট অব হরমুজ বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানির প্রধান রুট এটি। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতারের তেল এই পথ দিয়েই যায় ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
.jpeg.webp)
ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 14 March 2026 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ স্ট্রেট অব হরমুজ (Hormuz Pronali) নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর (CNN) খবর অনুযায়ী, ইরান সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজকে এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে পারে—তবে একটই গুরুত্বপূর্ণ শর্তে। সেই শর্ত হল, তেলের লেনদেন করতে হবে চিনা ইউয়ানে (Chinese Yuan), মার্কিন ডলারে (Dollar) নয়। তেহরানের এই এক শর্তেই তেল বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দাদাগিরি ঘুচে যেতে পারে। কারণ, গত ৫০ বছর ধরে বিশ্বের তেলবাজারে যাবতীয় লেনদেন হচ্ছে ডলারেই।
তেহরানের শীর্ষ সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান এমন কৌশল নিচ্ছে যাতে নির্দিষ্ট কিছু ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে। তবে তেলের মূল্য চুকোতে হবে চিনা ইউয়ানে।
স্ট্রেট অব হরমুজ বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানির প্রধান রুট এটি। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতারের তেল এই পথ দিয়েই যায় ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বেড়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিমা সংস্থা এই পথে চলাচল করা জাহাজের বিমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বহু ট্যাঙ্কার বিকল্প পথ নিতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
চিনা ইউয়ানের শর্ত কেন?
ইরানের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশ্বের তেল বাণিজ্যে কি ডলারের একচেটিয়া প্রভাব ভাঙতে চলেছে?
১৯৭০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের প্রায় সব লেনদেনই মার্কিন ডলারে হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘পেট্রোডলার সিস্টেম’। এই ব্যবস্থার ফলে—অধিকাংশ দেশকে তেল কিনতে ডলার জমা রাখতে হয়। তাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য বজায় থাকে। কিন্তু ইরানের এই প্রস্তাব সেই ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম চিন। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী—ইরান থেকে চিনে রফতানি হওয়া তেলের ৮০–৯০ শতাংশই ইউয়ানে লেনদেন হয়। কখনও কখনও পণ্য বিনিময় ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়। চিন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের জন্য নিজেদের CIPS (Cross-Border Interbank Payment System) চালু করেছে, যা পশ্চিমী SWIFT ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে তৈরি। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৭৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইউয়ানে তেল বাণিজ্য শুরু হয়, তাহলে বিশ্ব তেল বাজারে একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার দাদাগিরি ঘুচে যেতে পারে। চিন ও ব্রিকস দেশগুলির জন্য ইউয়ানে তেল বাণিজ্য করবে ইরান। আর পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে চলবে ডলারে তেল বাণিজ্য। অর্থাৎ একই পণ্যের জন্য দুটি আলাদা বাজার তৈরি হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য বজায় রেখেছে। যদি ইউয়ান ভিত্তিক তেল লেনদেন বাড়তে থাকে, তাহলে—বিশ্বজুড়ে ডলারের প্রভাব কমতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ভারসাম্য তাতে বদলে যেতে পারে। এই কারণেই বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এখনও পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। এটি মূলত একটি সম্ভাব্য কৌশলগত পরিকল্পনা হিসেবে আলোচনা চলছে। বিশ্ব তেল বাজারে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
Iran could allow a limited number of oil tankers to pass through the Strait of Hormuz if the cargo is traded in Chinese yuan, CNN has reported, quoting an unnamed Iranian official.
Al Jazeera could not independently verify the claim.
🔴 LIVE updates: https://t.co/9gSaxMCItu pic.twitter.com/IFXJuv6bzf— Al Jazeera English (@AJEnglish) March 14, 2026
স্ট্রেট অব হরমুজ শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রণালীতে কোনও নতুন নীতি বা শর্ত আরোপ করা হলে তার প্রভাব পড়তে পারে তেলের দামে। যার অর্থ বিমানের জ্বালানির দামে হেরফের হবে। পরিবহণ খরচ বাড়বে। যা বিশ্ব অর্থনীতিকে আন্দোলিত করে তুলতে পারে। ফলে ইরানের এই সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে এখন গোটা বিশ্বই নজর রাখছে।