ভারতের (India) হাতে এখন ২৫০ মিলিয়ন ব্যারলের বেশি তেল মজুত আছে, যা ৭-৮ সপ্তাহ দেশের চাহিদা মেটাতে পারবে। এই তেল রাখা আছে ম্যাঙ্গালুরু, পাডুর ও বিশাখাপত্তনমের ভূগর্ভস্থ গুহায়, এছাড়া বিভিন্ন ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন ও জাহাজে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 March 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত (Middle East Tension) এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম (Global Oil Price) ও সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এমন সময়ে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো বাজার পরিস্থিতি স্থির রাখতে নিজেদের জরুরিভিত্তিতে মজুত করে রাখা তেল ব্যবহার করার কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে International Energy Agency বড় অর্থনীতির দেশগুলিকে একসঙ্গে তেল মজুত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। G7–এর অর্থমন্ত্রীদের অনলাইন বৈঠকে এই বার্তা জানায় জাপান (Japan)।
কেন দেশগুলো তেল মজুত রাখে
IEA–র (International Energy Agency) নিয়ম হল, যেসব দেশ তেল আমদানি বেশি করে, তাদের অন্তত ৯০ দিনের সমান তেল মজুত রাখতে হবে। এই মজুত থাকে সরকারি ট্যাঙ্ক, বাণিজ্যিক ভাণ্ডার আর কোম্পানির নিজের স্টোরেজে।
কোন দেশে কত তেলের মজুত আছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States) সবচেয়ে বেশি, সরকারি ভাণ্ডারে প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন ব্যারেল, আর কোম্পানিগুলোর কাছে ৪৩৯ মিলিয়ন ব্যারেল।
জাপানের (Japan) কাছে মোট প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন ব্যারেল, তার মধ্যে ২৬০ মিলিয়ন ব্যারেল সরকারি স্টোরেজ, যা ১৪৬ দিনের চাহিদা মেটাতে পারবে। চিনের (China) কাছে বর্তমানে আগামী তিন-চার মাস চলার মতো প্রায় ১.২ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত আছে।
জার্মানির (Germany) কাছে অপরিশোধিত তেল রয়েছে ১১০ মিলিয়ন ব্যারেল এবং পরিশোধিত ৬৭ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত রয়েছে। ফ্রান্সের কাছে মোট ১২০ মিলিয়ন ব্যারেল, যার বেশিরভাগ সরকারি সংস্থা SAGESS–এর অধীনে।ইতালি (Italy) আইনে বাধ্যতামূলক মজুত, মোট পরিমাণ ৭৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
ব্রিটেনে (United Kingdom) শিল্প–নির্ভর মজুত, মোট প্রায় 68 মিলিয়ন ব্যারেল। এর বেশিরভাগই কোম্পানিগুলোর দায়িত্বে রাখা হয়।
সমুদ্রে ভাসছে বিপুল তেল
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এখন ট্যাঙ্কারে ভাসছে। এর বড় অংশ এশিয়ার কাছে। এর মধ্যে আছে ইরান (Iran), ভেনেজুয়েলা (Venezuela) ও রাশিয়ার (Russia) তেল, যাদের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর সংকটে বিশ্ব বাজারে চাপ
হরমুজের উত্তেজনার (Strait of Hormuz Crisis) কারণে প্রতিদিনের প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি আটকে রয়েছে। অনেক দেশ রফতানি করতে না পেরে তেল মজুত করছে এবং সমুদ্র–ট্যাঙ্কারে ভরছে।
ইরাক উৎপাদন কমিয়েছে। সৌদি আরব (Saudi Arabia), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates) ও কুয়েতের (Kuwait) কিছু খালি জায়গা থাকলেও তা খুব সীমিত।
ভারতের অবস্থান- দেশে আছে প্রায় ২ মাসের মতো মজুত
ভারতের (India) হাতে এখন ২৫০ মিলিয়ন ব্যারলের বেশি তেল মজুত আছে, যা ৭-৮ সপ্তাহ দেশের চাহিদা মেটাতে পারবে। এই তেল রাখা আছে ম্যাঙ্গালুরু, পাডুর ও বিশাখাপত্তনমের ভূগর্ভস্থ গুহায়, এছাড়া বিভিন্ন ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন ও জাহাজে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করে জানিয়েছে, ভারতের হাতে মাত্র ২৫ দিনের তেল মজুত আছে, এটা ভুল তথ্য।
ভারতের আমদানি এখন আরও ছড়িয়ে দেওয়া
আগে ২৭টি দেশ থেকে তেল আসত, এখন প্রায় ৪০টি দেশ থেকে আসে। হরমুজ হয়ে আসে মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি ৬০ শতাংশ আসে রাশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, আমেরিকা ও মধ্য এশিয়া থেকে। ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে।