সব মিলিয়ে কার্যত ধুঁকছে দেশের এভিয়েশন সেক্টর। শিল্প বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ ১.৭ থেকে ১.৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

শেষ আপডেট: 10 March 2026 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমশই বাড়তে থাকা সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের আকাশে। আকাশপথ বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম—সব মিলিয়ে কার্যত ধুঁকছে দেশের এভিয়েশন সেক্টর। শিল্প বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ ১.৭ থেকে ১.৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এক নজরে বর্তমান সংকটের মূল কারণগুলো:
বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল: গত এক সপ্তাহেই ভারত থেকে বাতিল হয়েছে ১১০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। শুধু দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই দৈনিক ৪০০-র কাছাকাছি ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। বন্ধ সাত দেশের আকাশসীমা: ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরবসহ মোট সাতটি দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো এখন অচল। ভারতের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রায় ৫০ শতাংশই এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ হচ্ছে যাত্রাপথ: নিরাপত্তার খাতিরে ইউরোপ বা আমেরিকাগামী বিমানগুলোকে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বাড়তি সময় লাগছে। ফলে জ্বালানি খরচ সরাসরি বেড়ে যাচ্ছে।
পকেটে টান: জ্বালানি ও টাকার পতন
বিমান সংস্থাগুলোর মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড পতন।
জ্বালানির দাম: মার্চ মাসে এভিয়েশন ফুয়েলের (ATF) দাম ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি কিলোলিটার দাঁড়িয়েছে ৯৬,৬৩৮ টাকা।
ডলারের রেকর্ড দর: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডলার প্রতি টাকার দাম ৯২ টাকা ছাড়িয়েছে। যেহেতু বিমানের লিজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ডলারে দিতে হয়, তাই এই পতন বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞের মত: জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল এক ডলার বাড়লে শুধুমাত্র ইন্ডিগোর মতো সংস্থার বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
আকাশপথের এই অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বহু মানুষ বিদেশের বিমানবন্দরে আটকে আছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুললেও পরিস্থিতির সমাধান এখন কেবল যুদ্ধ থামার ওপরই নির্ভর করছে।