স্টেলথ প্রযুক্তির B-2 Spirit শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়ে না। এটি বহন করতে পারে GBU-57, ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা, যা গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে পারে।

ইরান-মার্কিন সংঘাত (ছবি- এআই)
শেষ আপডেট: 10 March 2026 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার সংঘাত এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। যুদ্ধ আর শুধু সেনা ও গোলাবারুদের লড়াই নয়- এটি বদলে গেছে প্রযুক্তি, অর্থব্যয় আর সহ্যশক্তির লড়াইয়ে। একদিকে ইরান (Iran) তুলনামূলক সস্তা ড্রোন আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভরসা করছে, অন্যদিকে আমেরিকা (United States) ও তার মিত্ররা ব্যবহার করছে উন্নত স্টেলথ বিমান, নির্ভুল ক্রুজ মিসাইল আর বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই দুই বিপরীত কৌশল মিলে যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের কৌশল: সস্তা কিন্তু বিপজ্জনক ড্রোনের ঝাঁক
Shahed-136: ইরানের মূল অস্ত্র
Shahed-136 ড্রোন প্রায় তিন মিটার লম্বা, ৪০-৬০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং প্রায় ২ হাজার কিমি পর্যন্ত উড়তে পারে। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ইরান একসঙ্গে বহু ড্রোন উৎক্ষেপণ করে- যার ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর দারুণ চাপ তৈরি হয়। বেশিরভাগ ধরা পড়লেও কিছু ড্রোন প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়।
Shahed-131: ছোট ড্রোন, বড় বিভ্রান্তি
এটি আকারে ছোট, রেঞ্জও কম, কিন্তু আক্রমণে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। প্রধান ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে একযোগে এগুলো আক্রমণ করলে শত্রুপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: এখনও সবচেয়ে বড় হুমকি
শাহাব ৩ (Shahab-3)
প্রায় ২ হাজার কিমি রেঞ্জ আর বড় আকারের ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতার কারণে Shahab-3 ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ড্রোনের সঙ্গে একসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়।
Fattah হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান দাবি করে, এই ক্ষেপণাস্ত্র ১৫-র বেশি গতিতে ছুটতে পারে এবং মাঝপথে দিক বদলাতে সক্ষম। যদিও এর প্রকৃত সক্ষমতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, তবুও এই ধরনের অস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও কঠিন করে তোলে।
আমেরিকার জবাব: হাই-টেক বিমান, বাঙ্কার বোমা ও ক্রুজ মিসাইল
B-2 Spirit ও GBU-57 বাঙ্কার-ব্লাস্টার
স্টেলথ প্রযুক্তির B-2 Spirit শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়ে না। এটি বহন করতে পারে GBU-57, ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা, যা গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে পারে।
তোমাহক ক্রুজ মিসাইল (Tomahawk Cruise Missile)
জটিল রুট ধরে কম উচ্চতায় উড়ে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। যুদ্ধজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র বহু টমাহক মিসাইল ব্যবহার করেছে।
LUCAS Drone: আমেরিকার সস্তা ড্রোন কৌশল
ইরানের মতো কম খরচের আক্রমণ চালাতে আমেরিকাও এখন একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করছে, যাতে দামি মিসাইল নষ্ট না হয়।
Patriot, APKWS: প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বদলে যাওয়া ছবি
ড্রোন আক্রমণ বাড়ায় আমেরিকা Patriot দিয়ে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে। তবে প্রতিটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল খুব ব্যয়বহুল। তাই ধীরে চলা ড্রোন ভাঙতে ব্যবহার করা হচ্ছে সস্তা APKWS লেজার-গাইডেড রকেট—প্রতি শটের খরচ প্রায় ২৫ হাজার ডলার।
প্রযুক্তি নয়, টিকে থাকার লড়াই
এই যুদ্ধের আসল চেহারা বলছে, কে বেশি আধুনিক অস্ত্র রাখে, তা নয়; বরং কে কতদিন ধরে তা চালিয়ে যেতে পারে। ইরান সস্তায় বেশি অস্ত্র বানিয়ে আক্রমণের ঢেউ তুলছে। আমেরিকা প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে, কিন্তু খরচ ব্যাপক।