হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে চাপ বাড়াতে সুইসাইড ড্রোন বোট মোতায়েন করেছে ইরান। লক্ষ্যে ধাক্কা লাগলেই বিস্ফোরণ। বাড়ছে উদ্বেগ।

এই সেই সুইসাইড ড্রোন বোট
শেষ আপডেট: 14 March 2026 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়াল ইরান (Iran)। বৃহস্পতিবার সেখানকার সেনাবাহিনী খানিকটা হুঁশিয়ারির সুরেই জানাল, তাদের হাতে বিপুল সংখ্যক ‘সুইসাইড ড্রোন বোট’ (Suicide Drone Boat) রয়েছে, যা এখন মোতায়েন করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার উদ্দেশ্যে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (State Television) এমন এক ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ করেছে, যাকে ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘মিসাইল সিটি’ (Missile City) বলে উল্লেখ করছে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথের (Tunnel Complex) ভিতরে সারি সারি নৌ ড্রোন (Naval Drone), অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র (Anti-ship Missile) এবং সমুদ্রের মাইন (Sea Mine) মজুত রয়েছে। কিছু ভিডিওতে অস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। তবে এই ভিডিওগুলি ঠিক কবে রেকর্ড করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সেই ঘাঁটি পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) বা ইজরায়েলের (Israel) হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।
একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, একটি সুড়ঙ্গের ভিতরে ট্রেলারের উপর রাখা একটি নৌ ড্রোনের উপর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) প্রতিকৃতি টাঙানো রয়েছে। এই নৌ ড্রোনগুলি আনম্যানড সারফেস ভেহিকল (Unmanned Surface Vehicle বা USV) বলে পরিচিত। এগুলো ছোট আকারের নৌযান, যা জলের উপর বা ঠিক নীচ দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায়। এতে বিস্ফোরক (Explosive) বহন করা থাকে এবং লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লাগলেই বিস্ফোরণ ঘটে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগর (Persian Gulf) এলাকায় ইতিমধ্যেই এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে অন্তত দু’টো তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ১ মার্চ মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে (Marshall Islands) নিবন্ধিত ‘এমকেডি ভিয়ম’ (MKD VYOM) নামে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ওমান (Oman) উপকূল থেকে ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাতের শিকার হয়। ব্রিটেনের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (United Kingdom Maritime Trade Operations) জানিয়েছে, একটি নৌ ড্রোন জাহাজটির জলের রেখার সামান্য উপরে আঘাত করে। বিস্ফোরণে ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে এবং এক নাবিকের মৃত্যু হয়।
কয়েক দিন পরে বাহামা (Bahamas) পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘সোনাঙ্গোল নামিবে’ (Sonangol Namibe) ইরাকের (Iraq) খোর আল জুবায়ের বন্দরের কাছে নোঙর করা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। জাহাজটির অপারেটর সোনাঙ্গোল মেরিন সার্ভিসেস (Sonangol Marine Services) জানিয়েছে, ২৩ জন নাবিক অক্ষত থাকলেও ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, স্পিডবোটের মতো দেখতে একটি ছোট নৌযান দ্রুত ট্যাঙ্কারের দিকে এগিয়ে এসে ধাক্কা মারে এবং সঙ্গে সঙ্গেই বড় বিস্ফোরণ ঘটে।
মেরিটাইম কর্তৃপক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলা সংঘাতের পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ধরনের নৌ ড্রোন অন্তত দু’টি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। এর আগে ইউক্রেন (Ukraine) রাশিয়ার (Russia) বিরুদ্ধে এবং ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীও (Houthi Militant) লোহিত সাগরে (Red Sea) অনুরূপ কৌশল ব্যবহার করেছে।
ইরান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ইরানের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার (200 Dollar per Barrel) পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।