ইরানের ‘সুইসাইড বোট’ হামলায় ইরাকের কাছে তেলবাহী জাহাজে মৃত্যু এক ভারতীয় নাবিকের। ঘটনায় দিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়ার দাবি জানাল জাহাজ সংস্থা।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 12 March 2026 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। ইরানের ‘সুইসাইড বোট’ (Suicide Boat) হামলায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক (Indian Seafarer)। ইরাকের (Iraq) খোর আল জুবাইর বন্দর (Khor Al Zubair Port) সংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘সেফসি বিষ্ণু’কে (Safesea Vishnu) লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এক সংবাদ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মার্শাল আইল্যান্ডস (Marshall Islands) পতাকাবাহী ওই তেলবাহী জাহাজটি ইরাকের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যেই আক্রমণের মুখে পড়ে। হামলার জেরে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে জাহাজে থাকা বাকি ২৭ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইরাকের বন্দরনগরী বসরায় (Basra)।
‘সেফসি’ সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ভারতীয় ক্রু সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত। একই সঙ্গে ভারত সরকারকে (Indian Government) এই হামলার কড়া নিন্দা করার আবেদনও জানানো হয়েছে। সংস্থার দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে (High-risk Maritime Zone) কাজ করা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্বের সামুদ্রিক কর্মীবাহিনীর (Global Maritime Workforce) প্রায় ১৫ শতাংশই ভারতীয়। ফলে এই ধরনের সংঘাতে ভারতীয় নাবিকেরা সহজেই ‘কোল্যাটেরাল ড্যামেজে’র অংশ হয়ে উঠতে পারেন।
উল্লেখ্য, ‘সেফসি বিষ্ণু’ একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার (Crude Oil Tanker)। ২০০৭ সালে তৈরি এই জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৮.৬ মিটার এবং প্রস্থ ৩২.৫৭ মিটার। মোট গ্রস টনেজ (Gross Tonnage) ৪২,০১০ এবং ডেডওয়েট টনেজ (Deadweight Tonnage) ৭৩,৯৭৬। এনিয়ে দিল্লির তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এই ঘটনার মধ্যে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানি (Mohammed Shia al-Sudani) আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)-র সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরাকের আকাশসীমা (Airspace), ভূখণ্ড (Territory) বা জলসীমা (Waters) যেন প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার না করা হয়।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামানোর একমাত্র উপায় হল ইরানের ন্যায্য দাবি (Iran’s Rights) স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক স্তরে শক্ত নিশ্চয়তা (International Guarantee) দেওয়া। তিনি বলেন, রাশিয়া (Russia) এবং পাকিস্তান (Pakistan)-এর প্রেসিডেন্টদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘জায়নিস্ট শাসন’ (Zionist Regime) এবং আমেরিকার (America) যুদ্ধোন্মাদ নীতির জেরেই এই সংঘাত শুরু হয়েছে।