ইরাকের কাছে আমেরিকার তেলের ট্যাঙ্কার ‘Safesea Vishnu’-তে আত্মঘাতী জাহাজের হামলা চালায় ইরান। ঘটনায় এক ভারতীয়র মৃত্যু।

শেষ আপডেট: 12 March 2026 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধে ফের এক ভারতীয়র মৃত্যুর খবর সামনে এল (Iran Israel War)। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরাকের কাছে একটি আমেরিকান তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। আত্মঘাতী জাহাজ ব্যবহার করে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আক্রান্ত তেলের ট্যাঙ্কারের নাম ‘Safesea Vishnu’। ইরাকের জলসীমাতেই এই হামলা হয় এবং সেই ঘটনায় এক ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে বলে খবর মিলেছে।
আজ ১২ মার্চে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত ১৩ দিনে পড়ল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির জেরে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মোট তিন জন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ২০ জনেরও বেশি ভারতীয় আহত হয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। গত ১৩ দিন ধরে ইরানের সঙ্গে লাগাতার সংঘর্ষ চলছে ইজরায়েল ও আমেরিকার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পক্ষই হামলার তীব্রতা বাড়াচ্ছে।
এদিকে ওমানের সাল্লাহ বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই হামলায় একাধিক জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও ওমানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের কোনও বড় ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনার পর ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওমানের সুলতান। ওমানের মাটিতে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দাও জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মোজতবা খামেনেইকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন ওমানের সুলতান। যদিও তার পরেও হামলার ঘটনা থামেনি। উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল ওমান। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই আলোচনার প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে যায়।
অন্যদিকে ইরাকের কাছাকাছি জলপথে একটি তেলের ট্যাঙ্কারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেইরুট উপকূলে গৃহহীনদের তাঁবু লক্ষ্য করে একাধিক বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েল। পাল্টা আক্রমণে আল-কুদসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আবার কেরমান প্রদেশে শত্রুপক্ষের একটি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে ইরানের সেনা। অন্যদিকে ইজরায়েলের দিকে পরপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হিজবুল্লাও। ফলে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত ক্রমেই আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।