যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত তেহরান! এমনই বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

মাসুদ পেজেশকিয়ান
শেষ আপডেট: 12 March 2026 08:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত ইরান (Iran Israel War)। ইজরায়েলের দাবি, বৃহস্পতি বার থেকেই নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে। তবে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শান্তির বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে তার জন্য তিনটি শর্ত মানতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েল যদি সেই শর্তগুলি মেনে নেয়, তবেই লড়াই থামাবে তেহরান। পাশাপাশি আরব উপসাগরীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও বন্ধ করবে ইরান। যুদ্ধবিরতির জন্য যে শর্তগুলি দেওয়া হয়েছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন পেজেশকিয়ান।
সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই সংঘাতের অবসানের একমাত্র পথ হল— ইরানের ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে কোনও আগ্রাসন যাতে না হয়, তার জন্য দৃঢ় আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি নিশ্চিত করা। রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই তিনি এই অবস্থান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথ হামলা শুরু করে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানে আর আক্রমণ করার মতো তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। তাঁর কথায়, তিনি যখন চাইবেন, তখনই যুদ্ধ থামাতে পারবেন। একইসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে।
তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, পুরোপুরি শান্তি না ফেরা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না। এর মধ্যেই যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এলাকায় শান্তি ফেরাতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও ‘ইরানের বৈধ অধিকার’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাননি পেজ়েশকিয়ান।
এদিকে বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্তই রয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকালেও একে অপরের উপর হামলা চালিয়েছে দুই দেশ। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি কবে থামবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।