বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। অন্য কোন দেশেও এমন নজিরবিহীন ঘটনার কথা শোনা যায়নি।

অধিবেশনে শুরুতেই বক্তব্য পেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শেষ আপডেট: 11 March 2026 23:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন (Bangladesh Parliament session) শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নতুন সংসদের সূচনা দিনে এক অভিনব ঘটনা ঘটতে চলেছে সেখানে। অধিবেশনে শুরুতে সংসদের স্পিকারের (parliament speaker) আসনটি থাকবে শূন্য। শূন্য থাকবে ডেপুটি স্পিকারের (deputy speaker) আসনটিও। অধিবেশনে শুরুতেই বক্তব্য পেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Bangladesh PM Tarek Rahman)।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। অন্য কোন দেশেও এমন নজিরবিহীন ঘটনার কথা শোনা যায়নি।
অভাবনীয় এই পরিস্থিতির কারণ বাংলাদেশ সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বছরখানেক আগেই পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক বর্তমানে কারাগারে। তিনি পদত্যাগ না করায় এখনও খাতায়-কলমে ডেপুটি স্পিকার আছেন। তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়ে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করানো যেত। কিন্তু আওয়ামী লিগ জমানার ডেপুটি স্পিকারকে এই কাজে যুক্ত করতে রাজি হয়নি কোন দলই।
সাবেক স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার দুজনেই আওয়ামী লিগের ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর গ্রেফতার হন ডেপুটি স্পিকার। অন্যদিকে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বেশ কয়েক মাস পর পদত্যাগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে তার ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হলে। এমনকী চাপ সৃষ্টি করতে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত সিল করে দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি।
২০২৪ এর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনই রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন বিএনপি সহ বিভিন্ন দলের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার বহাল থাকেন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ সংসদের কেউ স্পিকার পদে নেই। কারাগারে রয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিএনপি'র সংসদীয় দলের বৈঠকে স্থির হয়েছে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শুরুতে সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান ভাষণ দেবেন। ভাষণে তিনি একজন প্রবীণ সাংসদ এর নাম প্রস্তাব করবেন সভা পরিচালনা করার জন্য। কাকে তিনি বেছে নেবেন এই কাজের জন্য তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই প্রবীণ সাংসদ সভা পরিচালনার ভার নেওয়ার পর তিনি স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করবেন। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পথ দুটি সরকারি দলেরই প্রাপ্য। যদিও জুলাই সনদে বলা আছে ডেপুটি স্পিকার পদটি সংসদের প্রধান বিরোধীদলকে দিতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্ব সেই কারণে ডেপুটি স্পিকার পদে কাউকে বেছে নিতে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করে। তবে সম্ভবত জামাত এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। তাদের বক্তব্য জুলাই সনদের আধারে সংবিধান সংশোধনের পর তারা ওই পথ গ্রহণ করবে।
স্পিকার পদে জামাত কাউকে প্রার্থী করবে কিনা তাও এখনও স্পষ্ট করেনি দলটি। বিএনপি তরফে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য যোগ্য সাংসদকে বেছে নেওয়ার ভার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। জামাত প্রার্থী না দিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বিএনপি'র স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার।
ঠিক হয়েছে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তারপর নতুন স্পিকার অধিবেশন ফের শুরু করবেন এবং সূচনা বক্তব্য পাঠ করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। বহুদিন পর বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন উদ্বোধন করবেন যিনি শাসকদলের মনোনীত নন।