ভারত বাংলাদেশকে আগামী সরবরাহের জন্য ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপ লাইন চালু হয়েছিল ২০২৩ এর শেষ দিকে। ২০২১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পাইপ লাইন তৈরি করা হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় খরচে ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৫০ শতাংশ বহন করে ভারত।

শেষ আপডেট: 10 March 2026 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার চলতি সংকটে জ্বালানি নিয়ে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। পড়শি দেশের এই সংকটে বাংলাদেশকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ করতে চলেছে ভারত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবারই পাইপলাইনে ভারত থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। অসমের নূমালিগড় থেকে তেল পাঠানো শুরু হবে। দিন কয়েক পর শিলিগুড়ি থেকেও জ্বালানি সরবরাহ করা হবে বাংলাদেশকে।

২০২৩-এ ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপ লাইন দিল্লি ও ঢাকা থেকে উদ্বোধন করেন যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা
ভারত বাংলাদেশকে আগামী সরবরাহের জন্য ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপ লাইন চালু হয়েছিল ২০২৩ এর শেষ দিকে। ২০২১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পাইপ লাইন তৈরি করা হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় খরচে ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৫০ শতাংশ বহন করে ভারত।
শেখ হাসিনার সরকারের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলি তুমুল সমালোচনা করেছিল। এমনকী ২০২৪-এর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে জ্বালানি সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়। ফুল বাংলাদেশের জাতীয় সংকটে শেখ হাসিনার সময় তৈরি সেই মৈত্রী পাইপ লাইন দেশটির জন্য বড় ভূমিকা পালন করতে চলেছে। ভারত সরকারও এই সংকটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির জোরালো বার্তা দিল।
আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সহ সব দেশেই জ্বালানি সরবরাহ কমে গিয়েছে। তাঁর উপর বাংলাদেশে সংকটের আতঙ্কে বহু মানুষ বিপুল পরিমাণ পেট্রল ডিজেল সহ অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহ করে নিয়েছেন। ঢাকা সহ দেশের বড় শহরগুলিতে বহু পেট্রল পাম্প গত কয়েকদিন যাবত তেল শূন্য।
এছাড়া বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের এত বড় অংশ খরচ হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ডিজেল সহ বিভিন্ন জ্বালানি অভাব দেখা দেওয়ার সেটা একটা বড় কারণ। আবার বিদ্যুতের বড় অংশ খরচ হয় সার তৈরিতে। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ তৈরি কমানো সার উৎপাদনের চারটি থানা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দেশের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের জন্য যোগাযোগ করেছে তারেক রহমানের সরকার। গত সপ্তাহে ঢাকায় কর্মরত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি জ্বালানি সংকটে ভারতের সহযোগিতা চান। বাংলাদেশ- ভারত পাইপলাইন দিয়ে আগামী ৪ মাস অতিরিক্ত ৫০ হাজার ব্যক্তিত্ব জ্বালানি চেয়েছে বাংলাদেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে এখন রমজান মাস পালিত হচ্ছে। সামনে ইদ। এই সময় অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতেও বাড়তি জ্বালানি প্রয়োজন।