গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে। শুধু তাই নয়, চিনে যাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 11 June 2025 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রায় ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর (Xi Jingping) সঙ্গে। শুধু তাই নয়, চিনে যাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টিতে আশ্চর্য হয়েছিল কারণ কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও যুযুধান ছিল দুই পক্ষ। শুল্ক-যুদ্ধ চলছিল। কিন্তু বুধবার বড় ঘোষণা করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানিয়েছেন, চিনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal) সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার এই চুক্তির কথা প্রকাশ্যে আনেন ট্রাম্প নিজে। তিনি জানিয়েছেন, “চিন ও আমেরিকার সম্পর্ক এখন দারুণ জায়গায় রয়েছে। তবে এখনও এই সমঝোতা চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও।” ট্রাম্প জানিয়েছেন, চিন এবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে গুরুত্বপূর্ণ চুম্বক ধাতু এবং বিরল খনিজ পদার্থ। এর বদলে চিনের পড়ুয়াদের জন্য খুলে যাবে আমেরিকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা।

সূত্রের খবর, চুক্তির আওতায় দুই দেশ তাদের মধ্যে পণ্য আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপ করবে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদসংস্থাকে হোয়াইট হাউসের এক কর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকা চিনা পণ্যে ৫৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করবে। অন্যদিকে, চিন আমেরিকান পণ্যে আরোপ করবে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপড়েন কিছুটা হলেও মিটবে। বিরল খনিজ পদার্থ আমদানির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন গতি আসতে পারে। আবার, চিনা পড়ুয়াদের জন্য মার্কিন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা খুলে গেলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরও মজবুত হবে।
গত বৃহস্পতিবার শুল্ক-যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জল ঢেলে প্রথমবার ফোনালাপ করেছিলেন ট্রাম্প-জিনপিং। তাঁদের কথোপকথন প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি ও বিরল খনিজসম্পদ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ফোনালাপের কথা জানিয়েছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বড় ঘোষণা হয়ে গেল।