ভারতের গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রোজেক্ট স্টারলিঙ্ক (Starlink)।

শেষ আপডেট: 9 June 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রোজেক্ট স্টারলিঙ্ক (Starlink)। আগামী ১২ মাসের মধ্যে এই পরিষেবা চালু হতে পারে বলে জানা গেছে। আর পরিষেবার খরচ? প্রতি মাসে আনলিমিটেড ডেটা ব্যবহারে ৩,০০০ টাকা (Starlink monthly plan) এবং এককালীন হার্ডওয়্যার সেটআপ খরচ পড়তে পারে ৩৩,০০০ টাকা (Starlink setup cost)।
সরকারি ছাড়পত্র, এবার মাঠে নামার প্রস্তুতি
গত ৬ জুন টেলিকম মন্ত্রকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছে স্টারলিঙ্ক। এর ফলে ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে পারবে সংস্থাটি। বর্তমানে এই পরিষেবা দেওয়ার ছাড়পত্র রয়েছে কেবল তিনটি সংস্থার—ভারতের রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট, ভারতী এয়ারটেল-এর ওয়ানওয়েব, এবং এখন স্টারলিঙ্ক।
কাদের জন্য এই পরিষেবা?
স্টারলিঙ্ক মূলত ভারতের এমন সব এলাকায় পরিষেবা দিতে চায়, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অপটিক কভারেজ নেই বা খুবই দুর্বল। এর জন্য তারা ব্যবহার করবে লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। প্রাথমিক ভাবে প্রতি সেকেন্ডে ৬০০–৭০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।
দাম বেশি, কিন্তু প্রয়োজনীয়
ভারত যে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সস্তা মোবাইল ডেটা ব্যবহারের দেশ, তা সর্বজনবিদিত। তবে স্টারলিঙ্ক তার পরিষেবাকে ‘প্রিমিয়াম’ স্তরের বলে তুলে ধরছে, কারণ এটি এমন জায়গায় ইন্টারনেট দেবে, যেখানে অন্য কোনও পরিষেবা পৌঁছয় না।
স্টারলিঙ্কের প্রাক্তন ভারতীয় প্রধান সঞ্জয় ভরগব একসময় প্রথম বছরের খরচ ১.৫৮ লক্ষ টাকা হবে বলে অনুমান করেছিলেন। পরের বছরগুলোতে তা কমে ১.১৫ লক্ষ টাকা হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমান হিসেব অনুযায়ী, বছরে মোট খরচ হবে আনুমানিক ৬৯,০০০ টাকা।
এশিয়ায় ধীরে ধীরে বাড়ছে স্টারলিঙ্কের পদচারণা
এশিয়ার একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে স্টারলিঙ্ক পরিষেবা—জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, ভুটান ও বাংলাদেশ। সেখানে মাসিক খরচ ২,৬০০ টাকা থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ‘রেসিডেন্সিয়াল লাইট’ প্ল্যানগুলির খরচই ভারতের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
লাইসেন্স হাতে পেলেও স্টারলিঙ্কের পথ এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয়। ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি (TRAI) এখনও স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বরাদ্দ সংক্রান্ত সুপারিশের অনুমোদন পায়নি। এটি অনুমোদিত হলেই পূর্ণমাত্রায় পরিষেবা চালু করতে পারবে স্টারলিঙ্ক।
ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যতের দিশায় স্টারলিঙ্কের পদক্ষেপ একটি বড় মাইলফলক। পরিষেবা শুরু হলে দেশের হাজার হাজার প্রত্যন্ত এলাকা ইন্টারনেট-সংযোগের আওতায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর ডিজিটাল ভারত গড়ার পথে সেটাই হতে পারে বড় বদল।