Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

‘চিনের মতো ভুল আর নয়’, ভারতকে নিয়ে বাণিজ্য চুক্তিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন

গত দুই দশকে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে আমেরিকা। তাই ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন এবার অনেক বেশি সতর্ক এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে মাথায় রাখছে।

‘চিনের মতো ভুল আর নয়’, ভারতকে নিয়ে বাণিজ্য চুক্তিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 6 March 2026 09:54

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী আমেরিকা (India US trade deal)। তবে সেই পথে এগোতে গিয়ে অতীতে চিনকে নিয়ে যে ভুল করেছিল ওয়াশিংটন, তা আর করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র (US Won’t Repeat China Mistakes in India Trade Deal)। ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ।

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত 'রাইসিনা ডায়লগ' (Raisina Dialogue)-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ল্যান্ডাউ বলেন, গত দুই দশকে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে আমেরিকা। তাই ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন এবার অনেক বেশি সতর্ক এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি  (‘America First’ rule in US-India trade deal)) স্পষ্টভাবে মাথায় রাখছে (Christopher Landau Raisina Dialogue)।

ল্যান্ডাউ বলেন, “ভারতকে বুঝতে হবে, ২০ বছর আগে চিনের ক্ষেত্রে আমরা যে ভুল করেছিলাম, ভারতের ক্ষেত্রে তা আর করব না। আমরা তখন ভেবেছিলাম, বিভিন্ন বাজারে উন্নতির সুযোগ করে দিলে তা সবার জন্য ভাল হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চিন আমাদেরই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমেরিকা এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। “আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আমরা যা কিছু করব তা যেন আমাদের মানুষের কাছে ন্যায্য হয়। কারণ শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজেদের জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হয়। ঠিক যেমন ভারত সরকারেরও তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।”

তবে একই সঙ্গে ল্যান্ডাউ জানান, “আমেরিকা ফার্স্ট” মানে এই নয় যে আমেরিকা একাই চলতে চায়। বরং অন্য দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

তার কথায়, “ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন আমেরিকাকে আবার সেরা হিসেবে দেখতে চান, তেমনই তিনি আশা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা অন্য দেশের নেতারাও তাঁদের দেশকে শক্তিশালী করে তুলতে চাইবেন।”

ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মার্কিন কূটনীতিক। তিনি বলেন, একুশ শতকের আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের উত্থানের উপর। ল্যান্ডাউয়ের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান, বিপুল মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা - সব মিলিয়ে আগামী দশকগুলিতে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ভারত।

তার ভাষায়, “একটা বিষয় স্পষ্ট, এই শতক অনেকটাই এমন এক সময় হবে যখন আমরা ভারতের উত্থান প্রত্যক্ষ করব।”

ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে তিনি “পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্ব” বলেও ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, এই সম্পর্ক কোনও দান বা দয়ার ভিত্তিতে নয়, বরং দুই দেশেরই কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জায়গা থেকে তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখানে সমাজসেবা করতে বা দান করতে আসিনি। আমি এখানে এসেছি কারণ এটা আমাদের দেশের স্বার্থে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, ভারতেরও স্বার্থ রয়েছে এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার মধ্যে।”

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলা বাণিজ্য আলোচনাও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানান ল্যান্ডাউ। তাঁর কথায়, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এখন “প্রায় ফিনিশ লাইনের কাছাকাছি”।

গত মাসেই ভারত-আমেরিকা একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত করেছে, যা বৃহত্তর ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (US‑India Bilateral Trade Agreement)-এর অংশ। এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শুল্ক কমানো। মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে ভারতের রুশ তেল কেনার কারণে আগে যে ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

এর বদলে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দিনে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আমেরিকার জ্বালানি পণ্যের দিকে ঝুঁকবে নয়াদিল্লি।

শুধু তাই নয়, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের মার্কিন জ্বালানি, বিমান এবং উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।


```