গত অক্টোবর মাসে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে তিন দিন ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2025 08:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (India-America Trade Deal) মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA)-র প্রথম ধাপ খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে চলে আসা উচ্চ শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে এই চুক্তির গুরুত্ব বিশাল। সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো বেশিরভাগই মিটে যাচ্ছ, এবং প্রথম ধাপে চূড়ান্ত ঘোষণা শীঘ্রই হয়ে যাবে বলে আশাবাদী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং আরও ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর 'শাস্তি' হিসেবে চাপানো অতিরিক্ত শুল্ক। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রফতানি বড়সড় ধাক্কা খায়। এখন নতুন চুক্তির মাধ্যমে এই চাপ কমানোর চেষ্টা করছে উভয় দেশ।
সরকারি আধিকারিকের কথায়, BTA-র দুটি বড় অংশ রয়েছে। এক অংশের আলোচনা সময়সাপেক্ষ হলেও আরেকটি অংশ- যা মূলত পাল্টা শুল্ক নিয়ে তা ইতিমধ্যেই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে (India-America Trade Deal)। তাঁর দাবি, "এই প্যাকেজ যদি শুল্ক সমস্যার সমাধান না করে, তাহলে চুক্তির অর্থই থাকবে না।" প্রথম ধাপ বা প্রথম ‘ট্রাঞ্চ’ মূলত এই শুল্ক কমানোর ওপরই ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার দিন দুই দেশ পারস্পরিকভাবে ঠিক করবে। ইতিমধ্যেই ছয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে তিন দিন ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এদিকে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ২০২৬ থেকে আমেরিকা থেকে এক বছরের জন্য রান্নার গ্যাস (এলপিজি) আমদানির চুক্তি করেছে। যদিও এটি সরাসরি বাণিজ্য চুক্তির অংশ নয়, তবে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯১ বিলিয়ন ডলার। নতুন চুক্তির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে বাদাম, পিস্তাবাদাম, আপেল, ইথানল ও জেনেটিকালি মডিফায়েড ফসলের জন্য ভারতের বাজারে আরও সুযোগ চাইছে।
উচ্চ শুল্কের কারণে ২০২৪-২৫ সালে আমেরিকায় ভারতের রফতানি কিছুটা কমেছে, তবে আমদানি বেড়েছে, যা বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবং দুই দেশের সম্পর্ক মেরামত করতে BTA–র প্রথম ধাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।