স্কট বেসেন্ট ব্যাখ্যা করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন H-1B নীতি আসলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রগুলিকে ফের আমেরিকার মাটিতে ফিরিয়ে আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 13 November 2025 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন H-1B ভিসা (H1B Visa) নীতি মূলত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে (America) এনে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি! এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)।
এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বেসেন্ট বলেন, “ট্রাম্পের নতুন এই নীতি আসলে এক ধরনের ‘নলেজ ট্রান্সফার' (Knowledge Transfer) বা জ্ঞান স্থানান্তরের পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা।” তিনি জানান, গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ভুল উৎপাদন (Precision Manufacturing) শিল্প ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে সেই দক্ষতা ফের গড়ে তুলতেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের এনে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে প্রশাসন।
বেসেন্টের কথায়, “গত ২০-৩০ বছর ধরে আমরা নিজেদের দেশে জাহাজ বা সেমিকন্ডাক্টর (Semi-Conductor) তৈরি করছি না। হঠাৎ করেই তা শুরু করা সম্ভব নয়। তাই তিন, পাঁচ বা সাত বছরের জন্য দক্ষ বিদেশিদের আনব, তাঁরা মার্কিন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এরপর তাঁরা দেশে ফিরে যাবেন, আর আমেরিকান কর্মীরাই কাজটা হাতে নেবেন।”
বিদেশিদের জন্য মার্কিন চাকরি (Jobs in US) কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বেসেন্ট বলেন, “এই মুহূর্তে অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকানরা সেই কাজ করতে প্রস্তুত নয়। তাই বিদেশি কর্মীদের এনে তাঁদের কাছ থেকেই শিখে নেওয়াটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এতদিন সেমিকন্ডাক্টর বা জাহাজ তৈরির মতো শিল্পের কাজ বাইরে পাঠিয়েছি। এখন বিদেশি সহযোগীরা এসে মার্কিন কর্মীদের শেখাবেন - এটাই ট্রাম্পের লক্ষ্য।”
স্কট বেসেন্ট ব্যাখ্যা করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন H-1B নীতি আসলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রগুলিকে ফের আমেরিকার মাটিতে ফিরিয়ে আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় রিপাবলিকান প্রশাসন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন প্রশাসনের তরফে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল যা বিতর্ক সৃষ্টি করে। শ্রম দফতরের নতুন প্রচার ভিডিওয় সরাসরি ভারতের নাম তুলে বলা হয়, বিদেশিদের, বিশেষত ভারতীয়দের (Indians) কাজে নিয়ে আমেরিকার তরুণদের স্বপ্ন চুরমার করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আমেরিকার শ্রম দফতর লেখে, ‘‘এইচ-১বি (H1B Visa) অপব্যবহারের ফলে বহু তরুণ আমেরিকান তাঁদের স্বপ্ন হারিয়েছেন। বিদেশিদের জন্য তাদের চাকরি চলে গেছে।’’ সঙ্গে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শ্রমমন্ত্রী লরি চাভেজ-ডি রেমারের নেতৃত্বে এখন এই অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আমেরিকার তরুণদের স্বপ্ন সত্যি করার প্রয়াস করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই প্রচারাভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কর্মসূচিকে আবার সামনে এনেছে। ঘরোয়া কর্মসংস্থান, ভিসা যাচাই বাড়ানো ও শ্রমবাজারে জাতীয়তাবাদের সুর ফের জোরদার হচ্ছে।