ওয়াশিংটনে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলা দুই দেশের মুখ্য আলাপ আলোচনাকারীদের (Chief Negotiators) বৈঠকটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন।

নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 22 February 2026 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) একতরফা শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ছায়া এবার ভারত-আমেরিকা (India US Trade) বাণিজ্যিক মৈত্রীতেও। ওয়াশিংটনে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলা দুই দেশের মুখ্য আলাপ আলোচনাকারীদের (Chief Negotiators) বৈঠকটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Court) ট্রাম্প প্রশাসনের ঢালাও শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর পরিস্থিতির আমূল বদল ঘটেছে। সেই পরিবর্তিত সমীকরণ খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চাইছে দু’পক্ষ।
কেন এই স্থগিতাদেশ?
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর কতটা পড়বে, তা বিচার-বিশ্লেষণ করার জন্য দু’পক্ষই কিছুটা সময় চেয়েছে। মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “বর্তমান পরিস্থিতি ও তার প্রভাব মূল্যায়নের পরই পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে এই বৈঠকের দিনক্ষণ স্থির করা হবে।” ভারতের পক্ষে এই আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল বাণিজ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব দর্পণ জৈনের।
সুপ্রিম কোর্ট বনাম ট্রাম্প: শুল্ক যুদ্ধ
জটের সূত্রপাত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে যে ব্যাপক হারে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিল, আদালত তাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেয়। ৬-৩ বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। কিন্তু দমবার পাত্র নন ট্রাম্প। আদালতের রায়কে ‘অ্যামেরিকা-বিরোধী’ তকমা দিয়ে তিনি পাল্টা ঘোষণায় জানান, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘আমদানি সারচার্জ’ জারি করা হবে। শনিবার সেই হার আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
ঝুঁকির মুখে অন্তর্বর্তী চুক্তি
গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্যিক চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছিল। চুক্তিতে স্থির হয়েছিল, রুশ তেল আমদানির জন্য ভারতের ওপর থেকে ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং পারস্পরিক শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, এপ্রিলেই এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে সেই চুক্তির শর্তাবলি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই চিন্তায় নয়াদিল্লি।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নয়া ‘১৫ শতাংশ শুল্ক’ আদতে ভারতের রফতানি বাণিজ্যে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং আগের সমঝোতা আদৌ বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। আপাতত ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাইসিনা হিলস।