মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এর উদ্দেশ্য রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সুবিধা দেওয়া নয়, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা।

কয়েকটি দেশকে সাময়িক ছাড় দিল আমেরিকা
শেষ আপডেট: 13 March 2026 09:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা (Energy crisis) বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পর আরও কয়েকটি দেশকে সাময়িক ছাড় দিল আমেরিকা। সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন (Russian oil waiver 30 days)।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এর উদ্দেশ্য রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সুবিধা দেওয়া নয়, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা (US waiver Russian oil purchase)।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রকের এক পোস্টে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে দ্রুত পদক্ষেপ করছেন।
পোস্ট বলছে, “বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রেসিডেন্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন, বিশেষ করে ইরানের তৈরি করা অস্থিরতা ও হুমকির পরিস্থিতির মোকাবিলায়।”
আরও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কিনতে বিভিন্ন দেশকে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকে।
মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমতি খুবই সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি। শুধুমাত্র ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। ফলে রাশিয়ার সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ভারতের জন্যও বিশেষ ছাড়
শুক্রবারই মার্কিন প্রশাসন ঘোষণা করে যে ভারতের তেল শোধনাগারগুলিকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি কেনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও। এই ঘোষণা করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ত। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X)–এ জানান, এই ছাড়ের ফলে রাশিয়ার বড় ধরনের আর্থিক লাভ হবে না। কারণ এই অনুমতি কেবল সেই তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে আটকে রয়েছে।
এশিয়ার সমুদ্রে আটকে বিপুল তেল
সংবাদসংস্থা Bloomberg–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত এশিয়ার সমুদ্রপথে প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার তেল আটকে ছিল। মার্কিন প্রশাসনের এই অনুমতি কেবল সেই তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা ৫ মার্চের আগে জাহাজে তোলা হয়েছিল।
এই ছাড় কার্যকর থাকবে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত—ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত।
‘জ্বালানি বাজারকে কব্জা করতে চাইছে ইরান’
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই সাময়িক সিদ্ধান্তের লক্ষ্য বিশ্ব বাজারে চাপ কমানো।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, “ইরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে কব্জা করার চেষ্টা করছে। সেই পরিস্থিতিতে চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”