নিরূপমা রাওয়ের মতে, ভারতের কূটনীতি এখনও “স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি” বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কথা বললেও বাস্তবে নয়াদিল্লি ক্রমশ আমেরিকার কৌশলগত বলয়ের কাছাকাছি চলে আসছে। বিশেষ করে ইরান প্রশ্নে ভারতের মাপা অবস্থান আপাতত কিছু সুবিধা ও কূটনৈতিক চলাফেরার জায়গা তৈরি করে দিচ্ছে।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 6 March 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য সাময়িক ছাড় ঘোষণা করেছে আমেরিকা (Trump Russia oil waiver India)। আরও স্পষ্ট করে বললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বোঝা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের (Iran war) কারণে ভারতের তেল আমদানিতে যে অসুবিধা হচ্ছে, সেই কারণেই এই ছাড়। কিন্তু আসলে গোটা ব্যাপারটা যে একদিন বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক করলেন প্রাক্তন বিদেশ সচিব নিরূপমা রাও (ex Foreign Secretary Nirupama Rao)। তাঁর কথায়, ‘এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে গভীর ভূরাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ’। নিরূপমার মতে, এই পদক্ষেপ আসলে বৃহৎ শক্তির কূটনীতিরই এক পরিচিত কৌশল—যেখানে ছাড়, নিষেধাজ্ঞা ও ব্যতিক্রমী অনুমতির মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলির আচরণ প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
এদিন মার্কিন ট্রেজারি সচিব এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তি নীতির (energy policy) ফলে আমেরিকায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে মার্কিন ট্রেজারি ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার সাময়িক ছাড় দিচ্ছে।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই অনুমতি সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং মূলত সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের লেনদেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে এতে রাশিয়ার সরকারের তেমন আর্থিক লাভ হবে না বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন ট্রেজারি আরও জানিয়েছে, ভারত আমেরিকার এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং ভবিষ্যতে ভারত যে আমেরিকা থেকে আরও বেশি তেল কিনবে—তা নিয়ে তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। ইরানের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক সিদ্ধান্ত তা কিছুটা কমাবে বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নিরূপমা রাও বলেন, আমেরিকার বার্তাটি স্পষ্ট—সংকটের সময়ে তারা ভারতের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জ্বালানি নীতিকে তারা নিজেদের স্বার্থের কাছাকাছি দেখতে চায়।
রাওয়ের বিশ্লেষণে, আমেরিকা কার্যত বলছে—ভারত আপাতত রাশিয়ার তেল কিনতে পারে, তবে তা শুধুমাত্র ওয়াশিংটনের অনুমতির কারণে এবং সীমিত সময়ের জন্য। ভবিষ্যতে ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ যেন আমেরিকার দিকে সরে আসে—সেই প্রত্যাশাই এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বড় শক্তিগুলি প্রায়শই নিষেধাজ্ঞা, ছাড় বা বিশেষ অনুমতির মতো কূটনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করে মিত্র দেশগুলির নীতি প্রভাবিত করতে চায়। ভারতের ক্ষেত্রেও সেই কৌশলই দেখা যাচ্ছে।
নিরূপমা রাওয়ের মতে, ভারতের কূটনীতি এখনও “স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি” বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কথা বললেও বাস্তবে নয়াদিল্লি ক্রমশ আমেরিকার কৌশলগত বলয়ের কাছাকাছি চলে আসছে। বিশেষ করে ইরান প্রশ্নে ভারতের মাপা অবস্থান আপাতত কিছু সুবিধা ও কূটনৈতিক চলাফেরার জায়গা তৈরি করে দিচ্ছে।

নিরূপমা রাও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
তাঁর কথায়, অশান্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতার খোঁজে ভারত আংশিকভাবে নিজের নৌকার পাল আমেরিকা ও ইজরায়েলের দিকেই বেঁধে ফেলেছে।
তবে রাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতি এখনও বদলাচ্ছে এবং গোটা কৌশলগত চিত্রটি এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি কূটনীতিতে নতুন মোড় আসতেই পারে।