দিল্লিতে ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে নজর তুঙ্গে। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এফটিএ-র আলোচনা শেষ হয়েছে এবং মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং স্কট বেসেন্ট
শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (India EEU Relations) মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত হওয়া দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। মঙ্গলবার দিল্লিতে ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠকে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে চলেছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক। এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিকে ভারতীয় রফতানির ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতিতে যে ওয়াশিংটন মোটেও খুশি নয়, তা স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)।
এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EEU) সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যখন এখনও বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা চলছিল, তখনই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। বেসেন্টের দাবি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আমেরিকা ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি ‘ত্যাগ স্বীকার’ করেছে, অথচ সেই ইউরোপই এখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলছে।
ভারত রাশিয়ান তেল (India Russia Crude Oil) কেনার জেরে আমেরিকা যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, সে প্রসঙ্গ টেনে বেসেন্ট বলেন, “আমরা ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছি। আর ঠিক তার পরেই ইউরোপীয় দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই করল।” এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া থেকে তেল ভারতে ঢুকছে, ভারত সেই তেল পরিশোধন করে ইউরোপে রফতানি করছে। আর ইউরোপ সেই পরিশোধিত তেল কিনে কার্যত যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বেসেন্ট এর আগেও ভারতের উপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। গত বছর আগস্টে, অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে, তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে ভারত রুশ তেল পুনরায় বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করছে। তবে পরে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সুর কিছুটা নরম হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় শোধনাগারগুলি রুশ তেল কেনা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়েছে এবং ভবিষ্যতে শুল্ক প্রত্যাহারের একটি পথ খোলা থাকতে পারে। যদিও সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই দিল্লিতে ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে নজর তুঙ্গে। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এফটিএ-র আলোচনা শেষ হয়েছে এবং মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে এই তিন নেতাকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
এই চুক্তি কার্যকর হলে বস্ত্র ও গয়নার মতো ক্ষেত্রগুলি বিশেষ ভাবে উপকৃত হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মহল। বর্তমানে এই ক্ষেত্রগুলি আমেরিকার আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপে রয়েছে। এপ্রিল ও আগস্টে ধাপে ধাপে এই শুল্ক বসানো হয়, যার একটি বড় কারণ ছিল রুশ তেল নিয়ে ভারতের অবস্থান। সেই আবহেই ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে বলে মত কূটনৈতিক মহলের।