যদিও এই বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি পিএলজিএ-র ভূমিকা রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ওই জঙ্গলে অন্তত ১০০ জন সশস্ত্র মাওবাদী আত্মগোপন করে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 January 2026 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের বিজাপুর (Chhattisgarh Bijapur) জেলায় মাওবাদী দমন অভিযানের সময় একের পর এক আইইডি বিস্ফোরণে (IED Blast) জখম হলেন ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী জওয়ান। রবিবার এই ঘটনা ঘটে কারেগুট্টা পাহাড় সংলগ্ন ঘন জঙ্গল এলাকায়। আহতদের মধ্যে ১০ জন জেলা রিজার্ভ গার্ড (DRG)-এর সদস্য এবং একজন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) কোবরা ইউনিটের জওয়ান।
পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, উসুর ব্লকের পশ্চিম দিকে পাহাড়ি এলাকায় মাওবাদীদের (Maoists) সশস্ত্র শাখা পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (PLGA)-র একটি ব্যাটেলিয়ন লুকিয়ে আছে - এমন গোপন খবরের ভিত্তিতেই সোমবার যৌথ অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযানে অংশ নেয় ডিআরজি, সিআরপিএফ এবং কোবরা বাহিনী। অভিযানের সময়ই রবিবার সকালে পরপর ছ’টি আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণে আহত কোবরা জওয়ানের নাম রুদ্রেশ সিং। তিনি কোবরা বাহিনীর ২১০ ব্যাটালিয়নের সাব-ইন্সপেক্টর বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত ডিআরজি সদস্যদের মধ্যে তিনজনের পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে এবং আরও তিনজনের চোখে আঘাত এসেছে বলে সূত্রের খবর। সকলকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যদিও এই বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি পিএলজিএ-র (PLGA) ভূমিকা রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ওই জঙ্গলে অন্তত ১০০ জন সশস্ত্র মাওবাদী আত্মগোপন করে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ মাওবাদী মুক্ত করা হবে। সেই লক্ষ্যেই একের পর এক রাজ্যে জোরদার করা হয়েছে যৌথ অভিযান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ‘সবচেয়ে বেশি মাওবাদী প্রভাবিত’ জেলার সংখ্যা কমে ছ’টি থেকে তিনটিতে নেমেছে। এই তিনটি জেলা হল - বিজাপুর, সুকমা এবং নারায়ণপুর, সবকটিই ছত্তীসগড়ে অবস্থিত।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ২ হাজার ১৬৭ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে, ৩৩৫ জন সংঘর্ষে নিহত হয়েছে এবং ৯৪০ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ১ হাজার ৮০০-র বেশি মাওবাদী নিহত এবং ১৬ হাজারের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে আত্মসমর্পণ করেছে প্রায় ৯ হাজার ৫৮০ জন।
বিজাপুরে রবিবারের এই বিস্ফোরণ আবারও মনে করিয়ে দিল—মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই হামলা অভিযানের গতি থামাতে পারবে না, বরং মাওবাদী দমনে অভিযান আরও তীব্র হবে।