পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারী ন’জন মাওবাদীর মধ্যে সাতজনই মহিলা। তাঁদের মাথার উপর মোট ৪৭ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এই মাওবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে নবরংপুর জেলা এবং পার্শ্ববর্তী ছত্তীসগড়ের ধামতারি এলাকায় সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ন’জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণের (Surrender of Maoists) পর ওড়িশার নবরংপুর (Nabrangpur District Odisha) জেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাওবাদী মুক্ত’ (Naxal Free) বলে ঘোষণা করল প্রশাসন। শনিবার এই ঘোষণা করে জেলা পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণের ফলে দীর্ঘদিনের মাওবাদী প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হল এই জেলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারী ন’জন মাওবাদীর মধ্যে সাতজনই মহিলা। তাঁদের মাথার উপর মোট ৪৭ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এই মাওবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে নবরংপুর জেলা এবং পার্শ্ববর্তী ছত্তীসগড়ের ধামতারি এলাকায় সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই আত্মসমর্পণের ফলে নবরংপুর জেলায় (Nabrangpur) আর কোনও সংগঠিত মাওবাদী কার্যকলাপ অবশিষ্ট নেই। তাই জেলাটিকে মাওবাদী মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হল।” প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে লাগাতার অভিযান, উন্নয়নমূলক কাজ এবং আত্মসমর্পণ নীতির ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
নবরংপুর জেলার অতীত অবশ্য মাওবাদী হিংসার একাধিক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী। ২০১১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই জেলাতেই মাওবাদী হামলায় নিহত হন তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক জগবন্ধু মাঝি এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী পি কে পাত্র। তার এক বছর আগেই, ২০১০ সালের ১৬ জুলাই রায়গড় ব্লকের কুন্দেই থানায় হামলা চালিয়েছিল মাওবাদীরা। ওই ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল।
তবে পুলিশ জানাচ্ছে, ২০১১ সালের পর থেকে নবরংপুরে বড় কোনও মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটেনি। ধীরে ধীরে জেলাটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরাতে পুনর্বাসন ও সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বর্তমানে ওড়িশার মোট ৩০টি জেলার মধ্যে মাত্র সাতটি জেলায় মাওবাদী প্রভাব এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই জেলাগুলি হল— কন্ধমল, কালাহান্ডি, বোলাঙ্গির, মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড় এবং বৌধ। সেখানেও মূলত প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার কয়েকটি পকেটে সীমাবদ্ধ মাওবাদী কার্যকলাপ।
নবরংপুরের মাওবাদী মুক্ত হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। কারণ কেন্দ্রের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণভাবে মাওবাদী মুক্ত করার সময়সীমা ক্রমশ এগিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্যের পথে এই আত্মসমর্পণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।