সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করে আমেরিকার দিকেই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন মোদী, এরকমটাই মনে করা হচ্ছে। মোদীর এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন করে আর্থিক, বাণিজ্য ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একাধিক দেশের উপর মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধ (US Tariffs) নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

মোদীর কথায়, এটি উৎপাদন ক্ষেত্র (Manufacturing Sector) ও পরিষেবা শিল্পকে (Services Sector) নতুন গতি দেবে।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) মঙ্গলবার বলেন, সদ্য চূড়ান্ত হওয়া ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই পক্ষেরই আইনের শাসন রক্ষার দায়বদ্ধতাকে শক্তিশালী করবে। সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করে আমেরিকার দিকেই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন মোদী, এরকমটাই মনে করা হচ্ছে। মোদীর এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন করে আর্থিক, বাণিজ্য ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একাধিক দেশের উপর মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধ (US Tariffs) নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
এদিকে, একই দিনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (European Union – EU) কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ইউরোপ কার্যত নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে। বেসেন্ট বলেন, আমরা ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছি রুশ তেল কেনার জন্য। অথচ ইউরোপ ভারতকে সঙ্গে নিয়ে বাণিজ্য চুক্তি করল। ইউরোপ নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।
ভারত (India) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Landmark Free Trade Agreement) চূড়ান্ত করার দিকে এগোতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী এই চুক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতির (Global Economy) জন্য একটি বড় মাইলফলক বলে বর্ণনা করেছেন। মোদীর কথায়, এই বিশাল চুক্তি বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ২৫ শতাংশ জুড়ে রয়েছে এবং এটি উৎপাদন ক্ষেত্র (Manufacturing Sector) ও পরিষেবা শিল্পকে (Services Sector) নতুন গতি দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ (Mother of All Deals) বলে আলোচনা করছেন। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলির লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য বিপুল সুযোগ তৈরি করবে। তিনি আরও জানান, এই চুক্তির ফলে ভারতের বস্ত্রশিল্প (Textiles), রত্ন ও গয়না শিল্প (Gems and Jewellery) এবং চামড়া শিল্প (Leather Goods) বিশেষভাবে লাভবান হবে।
মোদীর মতে, ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির (Two Largest Economies) মধ্যে সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, এই চুক্তি বিশ্ব জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের (Global Trade) প্রায় এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, গণতন্ত্র (Democracy) ও আইনের শাসনের প্রতিও আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই চুক্তি সাম্প্রতিক ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তির (India-UK Trade Deal) পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং ভারতের শিল্পোৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা (Antonio Costa) জানিয়েছেন, এই চুক্তি বিশ্ব বাণিজ্যে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা পাঠাচ্ছে। বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শুল্কনীতি ও আমেরিকা প্রথমের মতো আত্মসুরক্ষাবাদী (Protectionism) একপেশে ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কোস্তার মতে, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও একটি কৌশলগত অবস্থান (Strategic Position) নির্দেশ করে। যা ক্রমবর্ধমান শুল্কযুদ্ধের (Tariff War) বিরুদ্ধে একটি যৌথ প্রতিবাদ।