ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকা ও রাশিয়ার মুখোমুখি সংঘর্ষ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 7 January 2026 23:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও রাশিয়ার (Russia) মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল আন্তর্জাতিক জলসীমায়। ‘মেরিনেরা’ নামে একটি তেলের ট্যাঙ্কার (Oil Tanker) ঘিরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে দুই শক্তিধর দেশ। ভেনেজুয়েলা (Venezuela) থেকে তেল রপ্তানির উপর আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ওই ট্যাঙ্কারটি যাত্রা শুরু করেছিল বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ট্যাঙ্কারটি সিজ করার দাবি করেছে আমেরিকান সেনার ইউরোপীয় কমান্ড। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও পরোক্ষে এই ঘটনার সত্যতা মেনে নেওয়া হয়েছে।
আমেরিকান সেনার ইউরোপীয় কমান্ড জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্যাঙ্কারটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি আমেরিকান ফেডারাল আদালতের জারি করা পরোয়ানার পরেই উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে যুদ্ধ বিভাগকে সহায়তা করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একাধিক সংস্থা।
জানা গিয়েছে, রুশ পতাকাবাহী জাহাজটিকে ধরতে গত দু’সপ্তাহ ধরে তাড়া করছিল আমেরিকান কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘ইউএসসিজিসি মুনরো’। সেই অভিযানে আমেরিকান নৌবাহিনীর জাহাজও অংশ নেয়।
ওয়াশিংটনের দাবি, এই ট্যাঙ্কারটি ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ ভাবে তেল পাচারের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের অংশ। জাহাজটির আসল নাম ‘এমভি বেলা ১’। অভিযোগ, আমেরিকার নজর এড়াতে মাঝসমুদ্রে নিজের নাম ও পতাকা বদলে রাশিয়ার রেজিস্ট্রেশন নিয়েছিল ট্যাঙ্কারটি।
প্রথমে মস্কো স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, রুশ পতাকাবাহী কোনও জাহাজে আমেরিকার তল্লাশি বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু আমেরিকা সিজের ঘোষণা করার পর রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়, ‘মেরিনেরা’-তে আমেরিকান সেনার আরোহণ সংক্রান্ত খবরের উপর নজর রাখছে রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক।
আরটি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, রুশ সময় অনুযায়ী এ দিন দুপুর ৩টে নাগাদ আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটিকে বাজেয়াপ্ত করে আমেরিকা। মস্কোর পক্ষ থেকে জাহাজে থাকা রুশ নাগরিকদের প্রতি ‘মানবিক আচরণ’ এবং তাঁদের অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে রাশিয়া।
এই ঘটনার সঙ্গে ব্রিটেনের ভূমিকাও সামনে এসেছে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে উদ্ধৃত করে আরটি জানিয়েছে, রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে সহায়তা করেছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ মন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, এই পদক্ষেপ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগেরই অংশ।
এর আগে আরটি জানিয়েছিল, আমেরিকান বাহিনী জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করছে, এই খবর পাওয়ার পর সেটির নিরাপত্তায় একটি পারমাণবিক সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল ক্রেমলিন। তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রুশ তেল ট্যাঙ্কারটির বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ব্রিটেন যৌথ ভাবে সামরিক অভিযান চালায়।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া কি আমেরিকার বিরুদ্ধে বড় কোনও পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়লেও আমেরিকান সেনেটর মুলিন দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ‘একেবারেই চিন্তিত নন’। তাঁর বক্তব্য, “আমরা আমাদের পশ্চিম গোলার্ধ নিয়ন্ত্রণ করব। আমাদের অনুমতি ছাড়া ভেনেজুয়েলা থেকে কোনও তেল আসা-যাওয়া করবে না।”