হরমুজ প্রণালী (Starit of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খার্গ দ্বীপে শক্তিশালী মার্কিন হামলা
শেষ আপডেট: 14 March 2026 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের 'খাজানা' খার্গ দ্বীপে (Iran's oil hub Kharg Island) বোমা হামলা আমেরিকার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরবদুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, তাঁর নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে (military targets on Kharg Island)। তাঁর কথায়, "ইরানের 'মুকুটমণি' খার্গ দ্বীপে থাকা সমস্ত সামরিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” তবে আপাতত দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা করা হয়নি বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে সেই তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী (Starit of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তির। তাঁর দাবি, আমেরিকা যেকোনও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে ইরানের পক্ষে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রে শক্তি অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
এই হামলার খবর সামনে আসতেই আরবদুনিয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের (Middle East Tension) আবহে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূল থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটি ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র। দেশটির প্রায় সমস্ত কাঁচা তেল এখান থেকেই বিদেশে পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এখান থেকে প্রায় ১৩.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বীপে বড় ধরনের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতিতে (Iran's economy) মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে এবং দেশের ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।