শুক্রবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ওমানের সোহর শহরের একটি শিল্প এলাকায় ড্রোন ভেঙে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আল-আওয়াহি শিল্পাঞ্চলে ওই ড্রোন আছড়ে পড়ার পরই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 March 2026 20:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার (Middle East Tension) মধ্যেই ওমানের একটি শিল্পাঞ্চলে ড্রোন বিস্ফোরণে (Oman Drone Blast) দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু (Oman Indians Death) হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, মোট ১১ জন আহতের মধ্যে ১০ জনই ভারতীয়। তবে তাঁদের কারও আঘাত গুরুতর নয় বলেই সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ওমানের সোহর শহরের একটি শিল্প এলাকায় ড্রোন ভেঙে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আল-আওয়াহি শিল্পাঞ্চলে ওই ড্রোন আছড়ে পড়ার পরই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই দুই বিদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েকজন।
বিদেশমন্ত্রকের উপসাগরীয় শাখার অতিরিক্ত সচিব অসীম মহাজন জানান, নিহত দুই শ্রমিকই ভারতীয় নাগরিক। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনও চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্র জানিয়েছে, ওমানে থাকা ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য সহায়তার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস ও কাজ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় হয়েছে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফোনে কথা বলে ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহণের পথ নিরাপদ রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বিদেশমন্ত্রীও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে ইরানে অবস্থান করা প্রায় ১৭০ জন ভারতীয় সম্প্রতি স্থলপথে আর্মেনিয়ায় পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছেন। বাকি নাগরিকদেরও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।
সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে বর্তমানে ২৪টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। সেগুলিতে রয়েছেন ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিক। প্রণালীর পূর্ব দিকে রয়েছে আরও তিনটি জাহাজ, সেখানে কর্মরত ৭৬ জন নাবিক। উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন জাহাজে কাজ করছেন।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত মজুতও রয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, আতঙ্কে অতিরিক্ত গ্যাস বুক করার কোনও প্রয়োজন নেই। দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।