হরমুজ প্রণালীর আগে আটকে রয়েছে ৮টি এলপিজি ট্যাঙ্কার। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে কথা বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
.jpg.webp)
এস জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 13 March 2026 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) জ্বালানি পরিবহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার জেরেই এলপিজি (LPG) সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের (Iran) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আটটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (LPG Tanker) এখন হরমুজ প্রণালীর ঠিক আগে অপেক্ষা করছে। নিরাপদে সেগুলি পার করানোর জন্য কূটনৈতিক স্তরে কথা চলছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি সরবরাহে যাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে সরকারের সংকট ব্যবস্থাপনা গোষ্ঠী (Crisis Management Group)। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এলপিজি সরবরাহ কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেই পরিকল্পনাই তৈরি হচ্ছে।
সূত্রের খবর, বর্তমানে আটটি এলপিজি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালীর আগে নোঙর করে রয়েছে। এই জাহাজগুলিকে নিরাপদে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইরানও। একই সঙ্গে আর একটি মানবিক বিষয়ও সামনে এসেছে। প্রায় ২৫০ জন ইরানি নাবিক (Iranian Sailor) বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তাঁরা দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। ভারত তাঁদের আপাতত আশ্রয় দিয়েছে এবং নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি জটিল হলেও সরবরাহ বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ ভারতের এলপিজি চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট এলপিজি প্রয়োজনের প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল।
এই আমদানির বড় অংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। বিশেষ করে সৌদি আরব (Saudi Arabia) এবং কাতার (Qatar) থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতে পৌঁছয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনও ধরনের বাধা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক স্তরেও জোরদার তৎপরতা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির (Abbas Araghchi) সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন। মূল লক্ষ্য, ভারতগামী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
সরকারি সূত্রের দাবি, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। যাতে দেশে রান্নার গ্যাসে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহ।