বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উচ্চমাত্রার বিমান ও নৌ-যুদ্ধ। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘স্মার্ট বোমা’-র উপর নির্ভর করে যে ধরনের যুদ্ধ চলছে, তাতে ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। ইতিমধ্যেই ইরানে ৭,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 March 2026 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের (US Iran War) মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই বিপুল আর্থিক চাপে পড়েছে আমেরিকা। স্থলসেনা না নামানো সত্ত্বেও এবং সংঘাত সীমিত রাখার আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও, খরচের অঙ্ক ছাড়িয়ে যাচ্ছে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের (US Iraq Conflict) ব্যয়ের হিসেবকেও।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই ২০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক বরাদ্দ চেয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যবহার করা হবে চলতি সামরিক অভিযান চালানো, ভবিষ্যতের হামলার প্রস্তুতি এবং দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উচ্চমাত্রার বিমান ও নৌ-যুদ্ধ। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘স্মার্ট বোমা’-র উপর নির্ভর করে যে ধরনের যুদ্ধ (US Iran Conflict) চলছে, তাতে ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। ইতিমধ্যেই ইরানে ৭,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত দামি স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে আঘাত হানতে সক্ষম।
একটি টমাহক ক্রুজ মিসাইলের দামই কয়েক মিলিয়ন ডলার। এছাড়া হাজার হাজার গাইডেড বোমা ব্যবহারের ফলে খরচ আরও বেড়ে চলেছে। যদিও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়েছে, তবুও সামগ্রিক ব্যয়ের উপর তার প্রভাব খুব বেশি পড়েনি।
পেন্টাগনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়া। বহু বছর ধরে তৈরি করা উন্নত অস্ত্রের মজুত কয়েক দিনের মধ্যেই অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে দ্রুত নতুন করে সেই ভাণ্ডার গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে ইরাক যুদ্ধের তুলনা টানা হলেও, দুই ক্ষেত্রের বাস্তবতা আলাদা। ইরানে স্থল অভিযান চালানো ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই আকাশপথ নির্ভর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন, যার প্রাথমিক খরচই বিপুল।
তবে এই বিপুল অর্থের বরাদ্দ সহজে মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউএস কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পাশ করানো কঠিন হতে পারে। ইরাক যুদ্ধের সময় যেখানে প্রায় বিনা বাধায় অনুমোদন মিলেছিল, এখন সেখানে মতভেদ স্পষ্ট।
এছাড়া মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কখনও পারমাণবিক স্থাপনা, কখনও নৌবাহিনী বা মিত্র গোষ্ঠী - লক্ষ্য বদল হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে কৌশল নিয়েও। ফলে সব মিলিয়ে, ইরান অভিযান শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও সামনে আসছে আমেরিকার কাছে।