বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের ভুয়ো খবর যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, তা স্পষ্ট। তাই সরকারি সূত্রের বাইরে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শই দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল।

জল্পনা বাড়তেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় বিদেশ মন্ত্রক
শেষ আপডেট: 21 March 2026 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের উপর সরাসরি হামলা চালাতে নাকি ভারতের পশ্চিমাঞ্চল ব্যবহার করতে পারে আমেরিকা, শুধু তাই নয়, তার জন্য আমেরিকা নাকি ভারতের কাছে অনুমতিও চেয়েছে। আরব দুনিয়ায় উত্তেজনার আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এমনই একটি বিস্ফোরক দাবিকে সরাসরি ‘ভুয়ো’ বলে খারিজ করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (US India Iran attack claim fact check)।
এই দাবিকে ঘিরে জল্পনা বাড়তেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ তাদের অফিসিয়াল ফ্যাক্ট-চেক অ্যাকাউন্ট থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন (MEA fake news alert)।
বিদেশ মন্ত্রকের বার্তা ছিল স্পষ্ট, “Fake News Alert! এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন পোস্ট থেকে সতর্ক থাকুন।”
Fake News Alert!
Please stay alert against such false and baseless claims and posts on social media! pic.twitter.com/oKRc2kefAo— MEA FactCheck (@MEAFactCheck) March 21, 2026
কোথা থেকে এল এই দাবি?
এই ভাইরাল দাবির সূত্র একটি সাংবাদিকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখানে বলা হয়েছিল, আমেরিকা নাকি ভারতের পশ্চিমাঞ্চল ব্যবহার করে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, এই পরিকল্পনা নাকি ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অফ এগ্রিমেন্ট (LEMOA)-এর আওতায় করা হতে পারে। এমনকি কঙ্কন উপকূলের কাছে সমুদ্রসীমায় মার্কিন সামরিক সম্পদ মোতায়েনের জল্পনাও তুলে ধরা হয় (LEMOA agreement India US)।
বিদেশ মন্ত্রক এই সমস্ত দাবিকে একেবারেই অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং এই তথ্যের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
ফলে স্পষ্ট, বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলার কোনও পরিকল্পনা নেই - এমনটাই সরকারি অবস্থান।
LEMOA কী?
LEMOA বা Logistics Exchange Memorandum of Agreement হল ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক লজিস্টিক চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনী পরস্পরের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে - তবে তা শুধুমাত্র জ্বালানি ভরানো, মেরামত, সরবরাহ বা বিশ্রামের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য, এবং তা সম্পূর্ণরূপে খরচের বিনিময়ে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই চুক্তি কোনওভাবেই অন্য দেশের মাটিতে সেনা মোতায়েন বা স্বয়ংক্রিয় সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেয় না। প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে বিবেচনা করে অনুমোদন দেওয়া হয়।
অন্য দেশের মাটি ব্যবহার করে সামরিক অভিযান - কীভাবে?
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনও দেশ অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সামরিক অভিযান চালাতে পারে, তবে তার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও অনুমতি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি থাকে যেমন ‘স্ট্যাটাস অফ ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট’ (SOFA), লজিস্টিক চুক্তি (যেমন LEMOA), বা বড় প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি, যেমন ন্যাটো।
ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে, গালফ যুদ্ধের সময় আমেরিকা সৌদি আরব ও কুয়েতের ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল, আবার ইরাক যুদ্ধের সময় তুরস্কের ইনসারলিক ঘাঁটি থেকেও অভিযান চালানো হয়েছিল।
তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি, কৌশলগত সম্পর্ক এবং আইনি সীমাবদ্ধতার উপর।
অতএব, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের ভুয়ো খবর যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, তা স্পষ্ট। তাই সরকারি সূত্রের বাইরে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শই দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল।