Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

হরমুজের বিকল্প সহজ নয় ভারতের জন্য, অন্য পথে আমদানিতে বাড়তে পারে খরচ, প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলকভাবে সস্তা। অন্য উৎস থেকে তেল আনতে গেলে দীর্ঘ পরিবহণ, বাড়তি ভাড়া ও বিমার খরচ - সব মিলিয়ে সামগ্রিক ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

হরমুজের বিকল্প সহজ নয় ভারতের জন্য, অন্য পথে আমদানিতে বাড়তে পারে খরচ, প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে

ফাইল ছবি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 21 March 2026 13:24

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার (India energy crisis Hormuz) সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত একসঙ্গে দু’টি পথে এগোচ্ছে (alternative oil supply India) - একদিকে সমুদ্রে নিজেদের জাহাজগুলিকে সুরক্ষিত রাখা, অন্যদিকে প্রয়োজনে বেশি খরচ সাপেক্ষ বিকল্প জ্বালানি উৎসের প্রস্তুতি নেওয়া।

ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশই নির্ভর করে গালফ অঞ্চল থেকে আসা সরবরাহের উপর। ফলে হরমুজে কোনও বিঘ্ন (Strait of Hormuz disruption India) সরাসরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নড়িয়ে দিতে পারে। বাস্তবেও তাই হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের উদ্বেগ দ্রুত বেড়েছে। যদিও ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছিল ভারত।

ইতিমধ্যেই তিনটি ভারতীয় এলপিজি-বাহী জাহাজকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এখনও ২০টিরও বেশি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে আটকে রয়েছে। সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জাহাজগুলির নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজগুলি দীর্ঘ সময় বন্দরে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

হরমুজের বিকল্প সহজ নয়

সমুদ্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমোডর রঞ্জিত রায়ের মতে, হরমুজ প্রণালীর কোনও সহজ বিকল্প ভারতের সামনে নেই। ভারতের জ্বালানি চাহিদার প্রায় অর্ধেকই গালফ অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল, আর এই বাস্তব পরিস্থিতিই জ্বালানি সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলছে।

তবে কিছু বিকল্প নিয়ে ভাবনা চলছে বলে আগেই জানিয়েছিল ভারত - যেমন রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানো, আমেরিকা বা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা, অথবা অন্য রুটে সরবরাহ ঘোরানো। কিন্তু সমস্যা একটাই, প্রতিটি ক্ষেত্রেই খরচ অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলকভাবে সস্তা। অন্য উৎস থেকে তেল আনতে গেলে দীর্ঘ পরিবহণ, বাড়তি ভাড়া ও বিমার খরচ - সব মিলিয়ে সামগ্রিক ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা

একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে স্থলপথে তেল এনে পরে এডেন উপসাগর দিয়ে জাহাজে পাঠানোর পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই রুট কতটা কার্যকর হবে এবং খরচ কতটা বাড়বে - তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।

হরমুজ এড়িয়ে অন্য রুট ব্যবহার করতে হলে জ্বালানির দাম বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাপ তৈরি করবে। এরই মধ্যে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ায় ভারতে এলপিজি সরবরাহেও টান পড়তে শুরু করেছে।

বিশ্বজুড়ে নৌ উপস্থিতি

ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে।

এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

বর্তমান সংঘাতের কোনও স্পষ্ট দিশা এখনও মেলেনি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে ইরান পারস্য উপসাগর দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা দেয় কি না, তার উপর।

এই মুহূর্তে ভারতের কৌশল তিনটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে - কূটনীতি, নৌ প্রস্তুতি এবং বিকল্প পরিকল্পনা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে গেলে খরচ বাড়ার সম্ভাবনা এড়ানো কঠিন।

ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল।

এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।


```