মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরান থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার থেকে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতীয় সংখ্যাগুলি। কিন্তু ইরান অনেক কম খরচে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব।

শেষ আপডেট: 21 March 2026 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল আমেরিকা। ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বল্পমেয়াদী নির্দেশনা জারি করার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। আন্তর্জাতিক দুনিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং এবং পিছু হটা বলে মনে করছে।
আসলে ইরান কাতারের বৃহত্তম তেলক্ষেত্রের উপর হামলা চালানোর পর আমেরিকা নড়েচড়ে বসেছে। ওই হামলার আগে ইজরাইয়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধকারে রেখে ইরানের বৃহত্তম প্রাকৃতিক তেল ভান্ডারে আক্রমণ চালায়। তার জবাব ইরান দেয় কাতারের উপর হামলা চালিয়ে। এরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। যার ধাক্কা গিয়ে পড়েছে আমেরিকার অর্থনীতির ওপর। এরপর থেকেই ইরানের উপর হামলা করা নিয়ে সুর নরম করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলকেও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোন অবস্থাতেই যেন ইরানের তেল ভান্ডারের উপর হামলা না চালানো হয়।
ট্রাম্পের সুর নরম করার আরও একটি কারণ হরমুজ প্রণালীকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলো থেকে সাড়া না পাওয়া। ইউরোপের শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে যুদ্ধে পূর্ণ সহযোগিতা করলেও ইরান নিয়ে আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়নি। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এজন্য ন্যাটোকেও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও তাতে বরফ গলেনি। বাধ্য হয়ে তিনি এখন ইরানের ওপর থেকে তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের ফলে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলিকে ইরান সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার অনুমতি দেবে বলে আশাবাদী সব মহল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গোটা বিশ্বে তেলের দামের আচমকা বৃদ্ধিতে চরম অস্বস্তি এবং সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য এক ধরনের বিজয়। যুদ্ধে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির অনেকটাই তারা পুষিয়ে নিতে পারবে তেল রপ্তানি সহজ হয়ে গেলে। এই খাতে তারা বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির জন্য এটি বড় সুখবর, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আমেরিকার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল দ্রুত বিশ্ব বাজারে আসতে চলেছে।
আমেরিকার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে ভারত ও জাপান। ওই দুটি দেশ ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে। এদিকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর আসা মাত্র ভারতের তেল আমদানি ও শোধনাগার সংস্থাগুলি ইরান থেকে জ্বালানি আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এমন তিনটি সংস্থা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ছাড়পত্র চেয়েছে ইরান থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরান থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার থেকে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতীয় সংখ্যাগুলি। কিন্তু ইরান অনেক কম খরচে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব।