এই নিয়ে এক সপ্তাহে তৃতীয় উপসাগরীয় দেশের নেতার সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার তিনি কথা বলেন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ (Sheikh Sabah Al-Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah)-এর সঙ্গে।
.jpg.webp)
ওমান সুলতানের সঙ্গে ফোনে কথা মোদীর
শেষ আপডেট: 19 March 2026 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Tension) মধ্যে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের (Haitham bin Tariq) সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দ্রুত বদলে যাওয়া আঞ্চলিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা- সবকিছু নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করলেন তিনি (Modi Speaks With Oman’s Sultan)। একই সঙ্গে দিলেন ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।
সংঘাত কমাতে সংলাপই একমাত্র পথ: মোদী
ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আলোচনাটি ছিল 'ফলপ্রসূ'। তিনি বলেন, সংঘাত কমাতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
ওমানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা করেছে ভারত
ওমানের সুলতানের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ওমানের (Oman) ওপর হওয়া আক্রমণ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোদী প্রশংসা করেছেন ওমান সরকারের সেই ভূমিকার, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও (Indian Citizen) রয়েছেন, তাঁরা নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, ভারত-ওমান উভয় দেশই হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করার পক্ষে।
এক সপ্তাহে তিনজন উপসাগরীয় নেতার সঙ্গে মোদীর কথা
এই নিয়ে এক সপ্তাহে তৃতীয় উপসাগরীয় দেশের নেতার সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার তিনি কথা বলেন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ (Sheikh Sabah Al-Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah)-এর সঙ্গে। মঙ্গলবার কথা হয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নয়হনের (Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan) সঙ্গে। প্রতিটি আলোচনাতেই প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার উপর।
ইরানের হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত
বৃহস্পতিবার ইরান উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও বাড়িয়েছে। জানা গিয়েছে,
ইরানি ড্রোনে লোহিত সাগরের (Red Sea) ধারে এক সৌদির অপরিশোধিত তেলের ঘাঁটিতে আগুন লাগে। কাতারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) স্থাপনাগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে। কুয়েতের দুটি তেল শোধনাগারেও আগুন লাগে। এই সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন ইজরায়েল ইরানের গ্যাসকেন্দ্র এবং বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।
কীভাবে শুরু হল সংঘাত?
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পরই ইরানের (Iran Israel US War) পাল্টা আক্রমণ শুরু। এরপর ইরান একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) নৌ–পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহন হয়। বাণিজ্য থমকে যাওয়ায় জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে ভারত-সহ অনেক দেশে। বিশ্ব বাজারে তেল ও গ্যাসের দামও বেড়ে গেছে। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।