ইরান–আমেরিকা-ইজরায়েল (Iran US Israel War) সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের উপর। কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টে মিসাইল হামলা করে এবার ইরান যেন ভারতকে আরও বিপদে ঠেলে দিল। কারণ, তেল ও গ্যাস (Gas) হাবে একের পর এক হামলার জেরে বেনজির অস্থিরতা তৈরি হয়ে গেল আন্তর্জাতিক বাজারে। সেই অভিঘাত এড়ানো ভারতের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

শেষ আপডেট: 19 March 2026 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান–আমেরিকা-ইজরায়েল (Iran US Israel War) সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের উপর। কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টে মিসাইল হামলা করে এবার ইরান যেন ভারতকে আরও বিপদে ঠেলে দিল। কারণ, তেল ও গ্যাস (Gas) হাবে একের পর এক হামলার জেরে বেনজির অস্থিরতা তৈরি হয়ে গেল আন্তর্জাতিক বাজারে। সেই অভিঘাত এড়ানো ভারতের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
ভারতের জন্য কেন এই সংঘাত এত গুরুত্বপূর্ণ? ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৫০% আসে বিদেশ থেকে। তার মধ্যে প্রায় ২০% সরাসরি কাতার নির্ভর। এলপিজির ৮০-৮৫% আমদানি হয় কাতার ও সৌদি আরব থেকে। অর্থাৎ, যে অঞ্চল এখন যুদ্ধের কেন্দ্রে—সেই অঞ্চলই ভারতের জ্বালানি সাপ্লাইয়ের মূল ভরকেন্দ্র।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। এই কেন্দ্র থেকেই বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রফতানি হয়, যার বড় অংশই ভারত পায়।
যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সার কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিটি গ্যাস প্রকল্পে সরবরাহ কমতে পারে। সিএনজি (গাড়ির জ্বালানি) ও পিএনজি (ঘরের গ্যাস)-এর দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। গ্যাস ও তেল দুই জ্বালানিরই দাম বাড়তে পারে ঘরোয়া বাজারে।
যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছুঁয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব তেল বিপণন সংস্থাগুলি কতদিন ঠেকাতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা আঠারো আনা। ডিজেলের দাম বাড়লেই পরিবহণ খরচ বাড়বে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি (inflation) চাপে পড়বে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে খুব দ্রুত।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এখন সেটি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র। যদি এই পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ভারতের তেল আমদানি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। বিকল্প উৎস থেকে তেল কিনতে হবে বেশি দামে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপরও চাপ বাড়বে।
ভারতের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাসের ঘাটতি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে পারে। সার উৎপাদন কমে কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তা ছাড়া শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়বে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা শুরু করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থাগুলি নতুন চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবে এই বিকল্প উৎস সাধারণত বেশি খরচসাপেক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস ও তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনর্গঠন করতে বছর লেগে যায়। ফলে এই সংকট স্বল্পমেয়াদি নাও হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর শুধু ভূ-রাজনৈতিক লড়াই নয়—এটি সরাসরি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। আর তার অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ছে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে জ্বালানি থেকে শুরু করে বাজার—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় চাপের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় অর্থনীতি।