ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে ধ্বংস করাই কি লক্ষ্য হবে আমেরিকার, নাকি শাসনব্যবস্থাকেও উৎখাতের চেষ্টা চলবে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। সূত্রের দাবি, হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, আরব দুনিয়ায় ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনীর প্রস্তুতির পর খুব দ্রুত হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 19 February 2026 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে আমেরিকা (US Iran Conflict) - এমনই ইঙ্গিত আরও জোরাল হচ্ছে। কারণ আরব দুনিয়ায় ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের (Iraq Attack) পর এত বড় মার্কিন বায়ুসেনা সমাবেশ দেখা যায়নি বলে দাবি করছে নানা মহল। জানা গেছে, অত্যাধুনিক এফ–৩৫ (F-35) ও এফ–২২ (F-22) যুদ্ধবিমানসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিমান ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে ওই অঞ্চলে।
আরও একটি রণতরী, যাতে আক্রমণ ও বৈদ্যুতিন যুদ্ধের উপযোগী বিমান রয়েছে, সেটিও রওনা দিয়েছে। বৃহৎ আকাশ অভিযানে সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ বিমানও পৌঁছচ্ছে। এখন বাকি শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) চূড়ান্ত অনুমোদন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে ধ্বংস করাই কি লক্ষ্য হবে আমেরিকার (US Iran Clash), নাকি শাসনব্যবস্থাকেও উৎখাতের চেষ্টা চলবে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। সূত্রের দাবি, হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, আরব দুনিয়ায় ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনীর প্রস্তুতির পর খুব দ্রুত হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা যুক্তিগুলি খতিয়ে দেখছেন এবং উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন।
বিমান চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বলছে, জর্ডনের মুওয়াফক সালতি ঘাঁটি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে মার্কিন বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান মোতায়েন হয়েছে। সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যোগাযোগ সমন্বয় বিমান এবং আকাশে জ্বালানি ভরার উড়ানও সক্রিয় রয়েছে।
পাশাপাশি পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও আরব দুনিয়ায় ১৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (USS Abraham Lincoln) এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফর্ড (USS Gerald R. Ford)।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের তুলনায় অনেক ছোট। তখন বহু বিমানবাহী রণতরী ও হাজারের বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জোটের সমর্থন নেই, এমনকি কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’-এ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ (Steve Witkoff) এবং তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনার (Jared Kushner)। আগের দিন জেনেভায় ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার রিপোর্টও তাঁকে জানানো হয়।
জেনেভায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি। ইরানের প্রধান আলোচক “কিছু নির্দেশক নীতিতে” ঐকমত্যের কথা বললেও, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখনও অমীমাংসিত।