শনিবার রাত যত বেড়েছে, আলোচনার গভীরতাও তত বেড়েছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দলগুলো এখন লিখিত তথ্য আদান-প্রদান করছে। রবিবার আলোচনায় সাময়িক বিরতি থাকলেও, আগামী সপ্তাহেই চতুর্থ দফার বৈঠকে বসবে দুই পক্ষ। ইরানের সরকারি হ্যান্ডেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ জানানো হয়েছে, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার দরজা বন্ধ হচ্ছে না।

শেষ আপডেট: 12 April 2026 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা তৃতীয় দফার বৈঠক শেষেও চূড়ান্ত কোনও রফাসূত্র না মিললেও, আশা ছাড়ছে না কোনও পক্ষই (US-Iran Peace Talks in Islamabad Extended)। আলোচনার টেবিলে এখন তৈরি হচ্ছে নতুন খসড়া (US-Iran Peace Talks New Draft)।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি বসেছে আমেরিকা এবং ইরান (Pakistan mediation US Iran)। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি অবশেষে থামবে? বিশ্বজুড়ে চড়তে থাকা উত্তেজনার পারদ কি কিছুটা হলেও নামবে? এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের নজর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে।
ম্যারাথন বৈঠক ও নতুন খসড়া
ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার তৃতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হওয়ার পর স্থির হয়েছে যে, কথা আরও এগোবে। দুই পক্ষই এখন একটি সংশোধিত খসড়া বা ‘রিভাইসড ড্রাফট’ তৈরির কাজে ব্যস্ত। আসলে আগের দফার আলোচনায় দুই দেশই কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তাই জট কাটাতে পাকিস্তানের প্রস্তাব মেনেই এই বাড়তি আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার আলোচনায় সাময়িক বিরতি থাকলেও, আগামী সপ্তাহেই চতুর্থ দফার বৈঠকে বসবে দুই পক্ষ। ইরানের সরকারি হ্যান্ডেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ জানানো হয়েছে, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার দরজা বন্ধ হচ্ছে না।
গত দেড় মাস ধরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা সরাসরি সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই তৃতীয় দফার আলোচনা ছিল ‘শেষ সুযোগ’। ওয়াশিংটনের কিছু ‘অতিরিক্ত দাবি’ নিয়ে ইরান ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, যুদ্ধের ভয়াবহতা কমাতে টেবিল ছাড়া হচ্ছে না।
উপস্থিত হেভিওয়েট নেতৃত্ব
এই আলোচনার গুরুত্ব বোঝা যাচ্ছে দু’দেশের প্রতিনিধি দলের নাম দেখলেই। মার্কিন দলের নেতৃত্বে রয়েছেন খোদ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের হয়ে সওয়াল করছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কয়েক দশকের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন মুখোমুখি এবং সরাসরি আলোচনা নজিরবিহীন বললেই চলে। ইসলামাবাদে সেরেনা হোটেলের রুদ্ধদ্বার কক্ষে প্রথমে মৌখিক আলোচনা চললেও, এখন তা পুরোপুরি লিখিত খসড়া বিনিময়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ স্তরে আলোচনা
শনিবার রাত যত বেড়েছে, আলোচনার গভীরতাও তত বেড়েছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দলগুলো এখন লিখিত তথ্য আদান-প্রদান করছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, আলোচনা এখন ‘টেকনিক্যাল’ স্তরে ঢুকে পড়েছে। এখানে শুধু কূটনীতি নয়, যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক, সামরিক, আইনি এবং পরমাণু বিষয়ক কমিটিগুলোও।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও শাহবাজ শরিফ
এই গোটা প্রক্রিয়ায় অনুঘটকের কাজ করছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজে এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন, পাশে রয়েছে দেশটির সামরিক নেতৃত্বও। মূল বৈঠকের আগে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করেছেন। পাকিস্তান চায় এই কূটনৈতিক জানলাটুকু ব্যবহার করে বড় কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে।
ফলাফল কোন দিকে?
এখনও দু’পক্ষের অবস্থান মেরুপ্রদেশের মতো দূরে। তবে ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকই ঠিক করে দেবে, দু’সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে আরব দুনিয়ায়। অতএব, আগামী কয়েক ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।