প্রোটোকল অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর কথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু ইসলামাবাদে শাহবাজ শরিফের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। গালিবাফ থেকে জেডি ভ্যান্স, প্রত্যেকের সঙ্গেই আসিম মুনিরকে প্রধান ভূমিকায় দেখা যাওয়ায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, পাকিস্তানের ‘ডি ফ্যাক্টো’ বা প্রকৃত শাসক আসলে কে।

বিদেশি প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানালেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির
শেষ আপডেট: 11 April 2026 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের মসনদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজ শরিফ থাকলেও, আসল রাশ যে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হাতেই (Munir vs Shehbaz Sharif) - তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল ইসলামাবাদে (Islamabad)। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য বিদেশি প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে আসতেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নন, বরং সেনাপ্রধান নিজেই তাঁদের অভ্যর্থনা জানালেন (Pakistan army chief receives foreign delegations)।
তবে আলোচনার তুঙ্গে এখন মুনিরের ‘পোশাকবদল’( Asim Munir Dress code US Iran peace talk)। একবেলায় তিনি রণসাজে সজ্জিত জওয়ান, অন্যবেলায় তিনি স্যুট-বুট পরিহিত নিখুঁত জেন্টলম্যান (Asim Munir Combat Gear vs Suit)! একই দিনে আসিম মুনিরের এই ‘সৈনিক’ বনাম ‘কূটনীতিবিদ’ ইমেজের লড়াই কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেটাই বোঝার চেষ্টা করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন ৭১ সদস্যের প্রতিনিধি দল যখন ইসলামাবাদে নামে, তখন আসিম মুনিরকে দেখা যায় ‘কমব্যাট গিয়ার’ বা যুদ্ধের পোশাকে। সাধারণ সেনার পোশাক নয়, রীতিমতো যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি ইরানিদের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত বার্তা। ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত সংঘাত এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে ইরানি ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছিল পাকিস্তানও। মুনিরের এই রণসাজ বুঝিয়ে দিল - ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও, পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
ইরানি প্রতিনিধিদের বিদায় জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরেই নূর খান এয়ারবেসে নামেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে মুনিরের রূপ সম্পূর্ণ আলাদা। সেনার উর্দি ত্যাগ করে তিনি তখন একদম পশ্চিমা কায়দায় স্যুট-বুট পরা। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল সঞ্জয় মেস্টনের (অবসরপ্রাপ্ত) মতে, মুনির আমেরিকার কাছে নিজেকে একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিনি সামরিক মেজাজে নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় আলোচনার টেবিলে বসতে চান।
প্রোটোকল অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর কথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু ইসলামাবাদে শাহবাজ শরিফের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। গালিবাফ থেকে জেডি ভ্যান্স, প্রত্যেকের সঙ্গেই আসিম মুনিরকে প্রধান ভূমিকায় দেখা যাওয়ায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, পাকিস্তানের ‘ডি ফ্যাক্টো’ বা প্রকৃত শাসক আসলে কে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সন্দীপ উন্নথনের মতে, আসিম মুনিরের এই ভোলবদল স্রেফ ক্যামেরার জন্য। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক হলেও ইদানীং তা তলানিতে ঠেকেছে। বালুচিস্তানে জঙ্গি দমনকে কেন্দ্র করে দুই দেশই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। চিনের হস্তক্ষেপে সাময়িক শান্তি ফিরলেও অবিশ্বাস ঘোচেনি। তাই ইরানি প্রতিনিধিদের সামনে যুদ্ধের পোশাক পরে মুনির আসলে পাকিস্তানের সামরিক শক্তির মহড়া দিতে চেয়েছেন।
ইসলামাবাদের আকাশ ছাপিয়ে এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরে চর্চার তুঙ্গে। পাকিস্তান কি সত্যিই দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে পারবে, না কি এই পোশাক-কূটনীতিই কোনও বড় বিপদের ইঙ্গিত - উত্তর লুকিয়ে আগামী কয়েক দিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেই।