ইরানের মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিশুদের ছবি সঙ্গী করেই পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি শেয়ার করে গালিবাফ লিখেছেন, "এই বিমানে ওরাই আমার সঙ্গী।"

নিহত শিশুদের ছবি সঙ্গী করেই পাকিস্তানে পা রাখলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার
শেষ আপডেট: 11 April 2026 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কূটনীতির টেবিলে মুখোমুখি বসার কথা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে। উদ্দেশ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটানো। কিন্তু সেই আলোচনার টেবিলে (Iran US negotiations Islamabad ceasefire) পৌঁছনোর আগেই এক অত্যন্ত কঠোর ও আবেগপ্রবণ বার্তা দিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Iran Speaker Ghalibaf)। তেহরান থেকে ইসলামাবাদগামী বিমানে তাঁর পাশের খালি সিটগুলোতে মানুষের বদলে জায়গা করে নিল সার সার রক্তমাখা ব্যাগ এবং শিশুদের ছবি (blood-soaked bags Ghalibaf flight), যারা ইরানের স্কুলে হওয়া মার্কিন হামলায় আগেই প্রাণ হারিয়েছে (Minab victims images Pakistan flight)।
ইরানের মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিশুদের ছবি সঙ্গী করেই পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি শেয়ার করে গালিবাফ লিখেছেন, "এই বিমানে ওরাই আমার সঙ্গী।"
ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধে মার্কিন মদতেই মিনাবের ওই স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ১৬৫ জন নিরীহ প্রাণ হারিয়েছিল। যদিও ওয়াশিংটন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের আলোচনার টেবিলে বসার আগে এই ছবিগুলো সামনে এনে ইরান স্পষ্ট করে দিল যে, তারা কেবল পরমাণু কর্মসূচি বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ওপর চলা 'যুদ্ধাপরাধ' নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে সরব হতে চাইছে।
ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে নেমেই গালিবাফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি সাংবাদিকদের সাফ জানান, "আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু ওয়াশিংটনের ওপর এক ফোঁটা বিশ্বাস নেই।" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গত এক বছরে দু'বার আলোচনার মাঝপথেই ইরান আক্রান্ত হয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে স্রেফ একটা 'নাটক' বা 'প্রতারণা' হিসেবে ব্যবহার করে, তবে ইরান নিজের স্বার্থ রক্ষায় কঠোরতম পদক্ষেপ নেবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষিত হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর এটাই প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ইরানের হয়ে গালিবাফের সঙ্গে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পরামর্শদাতা জ্যারেড কুশনার। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইজরায়েলি হামলার জেরে যে বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি টালমাটাল হয়ে পড়েছে, তা সামাল দেওয়াই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কী কী?
ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে:
১. ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি।
২. হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) অবরোধ প্রত্যাহার।
৩. দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির রূপরেখা।
রক্তমাখা ব্যাগ আর নিহত শিশুদের ছবি সঙ্গী করে গালিবাফ যে 'ইমোশনাল কার্ড' খেলেছেন, তা মার্কিন প্রতিনিধিদের কতটা চাপে রাখবে, এখন সেটাই দেখার। ইসলামাবাদের এই বৈঠক কি পারবে আরব দুনিয়ায় শান্তির সূর্যোদয় ঘটাতে, না কি কেবল ছবি আর বিবৃতির লড়াইয়েই থমকে যাবে কূটনৈতিক সৌজন্য? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।