তাহলে কি পরবর্তী বৈঠক কবে? ইরানের স্পষ্ট জবাব, আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই। তেহরানের বার্তা খুব পরিষ্কার, তাদের কোনও তাড়া নেই। তারা নিজেদের দেওয়া প্রস্তাবের ওপর অনড়। ইসলামাবাদে যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক টেবিলে বসেছিল দুই চরম শত্রু দেশ, সেই প্রচেষ্টাতেও এখন জল পড়ার জোগাড়।

শেষ আপডেট: 12 April 2026 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদের রুদ্ধদ্বার কক্ষে আলোচনায় (Islamabad peace talk US Iran war) রফাসূত্র কি বেরবে? দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন মনে করা হচ্ছিল পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির সূর্য উঠবে, তখনই সব হিসেব উল্টে গেল (US-Iran negotiations deadlock)। তৃতীয় দফা বৈঠকের শেষে ইরানের সোজাসাপ্টা জবাব - ‘বিগ নো’।
ওয়াশিংটনের আনা একগুচ্ছ শর্তকে ফের আলোচনা টেবিলেও ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দিল তেহরান। ফলে, যুদ্ধবিরতির যে জানলাটুকু খুলেছিল, তা ফের বন্ধ হওয়ার মুখে।
আমেরিকার দাবি ও তেহরানের তোপ
শনিবার ইসলামাবাদে ম্যারাথন বৈঠকের পর খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করে নিয়েছেন (JD Vance Iran talks), কোনও ‘সন্তোষজনক রফাসূত্র’ মেলেনি। তাঁর কথায়, “আমরা এমন কোনও জায়গায় পৌঁছতে পারিনি যা ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।” কিন্তু কেন এই অচলাবস্থা?
ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ এবং ‘ফারস নিউজ’ জানাচ্ছে, আমেরিকা এমন কিছু দাবি দাওয়ার ঝুলি নিয়ে বসেছে, যা তারা গত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধেও হাসিল করতে পারেনি। তেহরানের এক সূত্রের দাবি, “যুদ্ধক্ষেত্রে যা জেতা যায়নি, তা এখন আলোচনার টেবিল থেকে আদায় করতে চাইছে হোয়াইট হাউস।”
বিবাদের কেন্দ্রে হরমুজ ও পরমাণু স্বত্ব
আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রধান দুটি কাঁটা হল - হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকার। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী পথ এই হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ ইরান। অন্যদিকে, আমেরিকা চাইছে ইরান দীর্ঘমেয়াদী লিখিত প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কোনওদিন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।
জেডি ভ্যান্সের সাফ কথা, “আমাদের সোজাসুজি প্রশ্ন, ইরান কি পরমাণু অস্ত্র না বানানোর জন্য মানসিক ও কূটনৈতিকভাবে তৈরি? শুধু আজ বা দু’বছরের জন্য নয়, চিরস্থায়ী ভাবে?” কিন্তু ইরান মনে করছে, শান্তির আড়ালে আসলে তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে চাইছে ওয়াশিংটন।
মুখ বাঁচাতে অজুহাত খুঁজছে ওয়াশিংটন?
আলোচনায় উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের একাংশ এবং কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ জানাচ্ছে, আমেরিকা সম্ভবত এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটা অজুহাত খুঁজছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে কিছুটা ব্যাকফুটে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ‘খোয়া যাওয়া সম্মান’ ফিরে পেতেই এই আলোচনার মঞ্চে এসেছিল আমেরিকা। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা এখনও আকাশচুম্বী।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ এক প্রভাবশালী সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, “যতক্ষণ না ওয়াশিংটন যুক্তিগ্রাহ্য কোনও ডিল নিয়ে আসছে, ততক্ষণ হরমজ প্রণালীর পরিস্থিতিতে কোনও বদল হবে না। বল এখন আমেরিকার কোর্টে।”
আপাতত অনিশ্চয়তার অন্ধকার
তাহলে কি পরবর্তী বৈঠক কবে? ইরানের স্পষ্ট জবাব, আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই। তেহরানের বার্তা খুব পরিষ্কার, তাদের কোনও তাড়া নেই। তারা নিজেদের দেওয়া প্রস্তাবের ওপর অনড়। ইসলামাবাদে যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক টেবিলে বসেছিল দুই চরম শত্রু দেশ, সেই প্রচেষ্টাতেও এখন জল পড়ার জোগাড়।
যদিও আমেরিকা ও ইজরায়েল দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল, কিন্তু আলোচনার টেবিলে যে মেঘ জমেছে, তাতে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরনোর পর (২২ এপ্রিল) ফের মরুভূমির আকাশ বোমারু বিমানে ছেয়ে যাবে কি না, সেই আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ববাজার। আপাতত দুই দেশের প্রতিনিধিরাই বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে পরামর্শ করতে নিজেদের ডেরায় ফিরে গিয়েছেন। পর্দার আড়ালে কূটনীতির দড়ি টানাটানি চললেও, শান্তির ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।