উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী ওমান জানায়, দুই দেশই নিজ নিজ রাজধানীর সঙ্গে পরামর্শ করে “শীঘ্রই” আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় টেকনিক্যাল স্তরের বৈঠক হবে।

শেষ আপডেট: 27 February 2026 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেনেভায় (Geneva talks) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পরমাণু আলোচনায় (US Iran nuclear talks) “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান। তবে যুদ্ধ এড়াতে চূড়ান্ত কোনও চুক্তি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে (Geneva nuclear negotiations) মধ্যস্থতার দায়িত্বে ছিলেন ওমানের (Oman) বিদেশমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি (Badr Albusaidi)। তিনি জানান, দুই দেশই নিজ নিজ রাজধানীর সঙ্গে পরামর্শ করে “শীঘ্রই” আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় টেকনিক্যাল স্তরের বৈঠক হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইরান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বার আরাঘচি (Abbas Araghchi)। তাঁর কথায়, এটি ছিল “সবচেয়ে দীর্ঘ ও তীব্র” দফার আলোচনা। কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
কী নিয়ে মতভেদ?
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকার তারা ছাড়বে না। মার্কিন দাবি ছিল, ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Iran uranium enrichment dispute) বন্ধ করুক এবং প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে দিক। ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে আলোচনায় কিছু সম্ভাব্য রেয়াতের ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীনে তিন থেকে পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের পর সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আবার শুরু করতে পারবে ইরান।
এর বদলে ইরানের দাবি, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সমালোচকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তা ইরান সরকারের কাছে আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে।
এছাড়াও, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন যেমন গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লা, ইরাকের মিলিশিয়া বা ইয়েমেনের হুথিদের বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে ইরান। তাদের বক্তব্য, আলোচনা কেবল পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
কূটনৈতিক টানাপড়েনের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আরব দুনিয়ায় উল্লেখযোগ্য সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (USS Abraham Lincoln) সেখানে রয়েছে। একই সময়ে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ইসলামি দুনিয়ায় উপস্থিতি বিরল, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই স্পষ্ট করছে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, আমেরিকা হামলা চালালে গোটা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলি বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে বিবেচিত হবে। আরাঘচির ভাষায়, এমন পরিস্থিতি “ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ”-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে।
পটভূমি: ১২ দিনের সংঘর্ষের পর তৃতীয় দফা বৈঠক
জুনে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর এটি তৃতীয় দফার আলোচনা। ওই সংঘর্ষে ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা চালায় এবং মার্কিন বাহিনী ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে ভারী আক্রমণ করে।
মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, ইরান হয়তো তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
মূল মতভেদ রয়ে গেছে এক জায়গাতেই - আমেরিকা চায় ইরান পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। আর ইরান বলছে, অসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার।
ফলে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র কথা শোনা গেলেও, চূড়ান্ত চুক্তির পথ এখনও বহুদূর।