'অপারেশন এপিক ফিউরি'র প্রথম দশদিনে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ৫০-এর বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত
শেষ আপডেট: 11 March 2026 07:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ায় সংঘাত (Middle East Tension) গড়াল ১২ দিনে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আঘাত-প্রত্যাঘাতের পর্ব চলছেই। মঙ্গলবারই ট্রাম্প প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, রাতেই সবচেয়ে বড় অভিযান হবে ইরানের বিরুদ্ধে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে জোরদার হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী (US Attack on Iran)। অন্যদিকে, তেহরানে দ্বিতীয় দফার আক্রমণ ইজরায়েলের (Israel Strikes on Tehran)।
মার্কিন সেনাবাহিনী (US Force) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এবার সবচেয়ে তীব্র হামলা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের একাধিক নৌযান, বিশেষ করে ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, হামলা হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সতর্ক করেছেন, যে কোনও নৌযান যদি প্রণালীতে নৌ-মাইন বসানোর চেষ্টা করে, মার্কিন বাহিনী তা ধ্বংস করবে। তিনি জানান, জলপথে মাইন বসানোর প্রমাণ এখনও মেলেনি, তবে এমন কিছু ঘটলে আকাশপথে বোমাবর্ষণ-সহ সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, এই যুদ্ধে আমেরিকা ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য পেয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাননি। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের গতি ও সমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র প্রথম দশদিনে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ৫০-এর বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া, ইরানের কমান্ড সেক্টর, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন কারখান, নৌঘাঁটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করা হয়েছে।
ইজরায়েলের দ্বিতীয় দফা বিমান হামলায় কাঁপছে তেহরান
ইরানের রাজধানীতে দ্বিতীয় দফা হামলার কথা স্বীকার করেছে (Israel) সেনাবাহিনী। প্রথম দফায় লক্ষ্য ছিল তেহরান ও তাবরিজের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড কেন্দ্র। দ্বিতীয় দফায় আবারও রাজধানীতে আঘাত করে তাদের সামরিক কাঠামো দুর্বল করার দাবি করেছে ইজরায়েল।
মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার কঠোর নিন্দা উত্তর কোরিয়ার
উত্তর কোরিয়া (North Korea) বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কখনও সহ্য করা হবে না। ইরানের নতুন ধর্মীয় নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করে।